
|
দুই দশক পর সিলেটে আসছেন মুফতি তাকি উসমানী
প্রকাশ:
০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রায় দুই দশক পর সিলেট সফরে আসছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম, বিশিষ্ট ফকিহ ও ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী। আগামী ২৫ নভেম্বর সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে তাঁর আগমন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলনের আয়োজন করেছে জামিয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়া সিলেট। সম্মেলন সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে সিলেট বিভাগের আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইমাম-খতিবসহ সর্বস্তরের মুসলমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক মুফতি আবদুল মুনতাকিম। আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানীর সিলেট সফর ঘিরে ইতোমধ্যে ধর্মীয় অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁকে সিলেটে নিয়ে আসার জন্য জামিয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক মুফতি আবদুল মুনতাকিম কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে সিলেট সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন। গত বছর তাঁর সিলেট ও বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। অবশেষে চলতি বছরের নভেম্বরে সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২৫ নভেম্বর বুধবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার মাঠে এ আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-খতিব, ইসলামি চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসলমানদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সম্মেলনের প্রাথমিক অধিবেশনে পাকিস্তান বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আল্লামা হানিফ জালন্ধরিও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকেরা। সম্মেলন আয়োজনের বিষয়ে মুফতি আবদুল মুনতাকিম বলেন, ‘শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি সমকালীন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানী ও গবেষক। ইলম, ফিকহ, গবেষণা, লেখালেখি, ইসলাহি কার্যক্রম এবং মুসলিম উম্মাহর দিকনির্দেশনায় তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এমন একজন বরেণ্য আলেমের সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান ও চিন্তাগত দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা আমাদের জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় দুই দশক পর তাঁর সিলেট আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সৌভাগ্যের। তাঁর বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ ধরনের সফরের সুযোগ আবার কখন আসবে, তা বলা কঠিন। তাই আমরা এই সফরকে অত্যন্ত মূল্যবান ও ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছি।’ মুফতি আবদুল মুনতাকিম বলেন, দলীয়, চিন্তাগত ও শ্রেণিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এ সম্মেলনে অংশ নেওয়া উচিত। সিলেট বিভাগের আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-খতিব, আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মানুষসহ সর্বস্তরের মুসলমানের প্রতি তিনি সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মুফতি তাকি উসমানীর বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সম্মেলনটি সিলেটের ধর্মীয় ইতিহাসে স্মরণীয় একটি আয়োজন হয়ে থাকবে। এ জন্য সিলেটের সব মত ও পথের আলেম-উলামা, ইসলামি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলমানের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি। আইও/ |