
|
মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করার ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতের শত্রু: মাহমুদ মাদানি
প্রকাশ:
৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:৪২ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বৈষম্য ছড়ানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানি। তিনি বলেছেন, যারা মুসলমানদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানাতে চায়, তারা দেশের শত্রু। ৩০ ও ৩১ অক্টোবর হরিয়ানার নুহ জেলার মেওয়াতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, ইসলামবিদ্বেষ, গণপিটুনি, বুলডোজার অভিযান এবং মুসলমানদের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। মাহমুদ মাদানি বলেন, ভারতে সংবিধান ও আইনের শাসন গভীর সংকটের মুখে। গত এক বছরে দেশজুড়ে ঘৃণামূলক বক্তব্যের এক হাজার ৬০০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ ঘটনায় কোনো এফআইআর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বুলডোজার দিয়ে বাড়িঘর ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া সংবিধান, আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদার পরিপন্থী। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমিয়ত কোনো অবৈধ বিদেশি নাগরিককে সমর্থন করে না। একই সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের শুধু অভিযোগ না করে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামকে কেবল কথায় নয়, নিজেদের জীবনাচরণে তুলে ধরারও পরামর্শ দেন। বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে ইসলামবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য, গণপিটুনি এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বয়কটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ‘তেহসিন পুনাওয়ালা’ মামলার নির্দেশনা বাস্তবায়ন, পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং দ্রুত বিচার আদালত গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এ ছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। ওয়াক্ফ সংশোধনী আইন-২০২৫ পুনর্বিবেচনা এবং শিখদের শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির আদলে স্বাধীন ও ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াক্ফ সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে উঠে আসে। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে জমিয়তের প্রস্তাবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, ইসরায়েলি বসতি স্থাপন বন্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং পবিত্র আল-আকসাসহ ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে তরুণ প্রজন্মের জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জমিয়তের বিভিন্ন পর্যায়ের শাখাকে বছরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা আবুল কাসেম নোমানি, জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বিজনৌরি, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাওলানা রহমতুল্লাহ মির কাশ্মীরি, নায়েবে আমিরে হিন্দ মুফতি মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরি এবং মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসেমি। বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে দুই দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। সূত্র: সংগঠনের ফেসবুক পেইজ এসএইচ/ |