
|
মসজিদে নববীতে রওজা জিয়ারত: প্রবেশের আদব, সালাম ও দোয়ার পদ্ধতি
প্রকাশ:
২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:৪০ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আওয়ার ইসলাম ডেস্ক মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত মসজিদে নববী মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মুবারক জিয়ারত, তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ এবং প্রিয় দুই সাহাবি হজরত আবু বকর সিদ্দিক ও হজরত উমর (রা.)-কে সালাম জানানো মদিনায় আগত মুসলমানদের কাছে আবেগ ও শ্রদ্ধার বিষয়। তবে মসজিদে নববীতে প্রবেশের সময় কী আমল করতে হয়, রওজা মুবারকের সামনে কীভাবে সালাম পেশ করতে হয়, কোন দোয়া পড়া যায় এবং অন্যদের পক্ষ থেকে কীভাবে সালাম জানাতে হয়—এসব বিষয়ে অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে। বিশেষত, প্রথমবার মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়া জিয়ারতকারীদের জন্য এসব আদব ও আমল সম্পর্কে আগে থেকে জানা উপকারী। ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে রওজা মুবারক জিয়ারত ও সালাম পেশের কিছু পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে সংশ্লিষ্ট আরবি দোয়া, বাংলা উচ্চারণ এবং মূল লেখায় উল্লেখিত সূত্রগুলোসহ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো। মসজিদে নববীতে প্রবেশের আদব ও আমল প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই! মসজিদে নববীর বাবুস সালাম নামক দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় নিম্নোক্ত আদব ও আমলগুলো অনুসরণ করতে পারেন। ১. মসজিদে প্রবেশের দোয়া ও আদব মসজিদে প্রবেশের সময়— আরবি দোয়া: اللّٰهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ উচ্চারণ: আল্লাহুমাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিক। (ফতোয়া শামী ২/৪৯২, মুসতাদরাকে হাকেম ৭৯১, সহীহ মুসলীম ৭১৩-১) ২. রওজা মুবারকের দিকে যাওয়ার সময় দরুদ পাঠ রওযায়ে আকদাস পর্যন্ত পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত বিনম্রভাবে বিভিন্ন দরুদ পড়া। ৩. রওজা মুবারকের সামনে সালাম পেশ রওযায়ে আকদাসের চিহ্নিত জালি নজরে আসলে নিজের সালাম পেশ করবেন। আরবি: الصَّلاَةُ وَ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ উচ্চারণ: ওয়াস সালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ ওয়া-রাহমাতুল্লাহি ওয়া-বারাকাতুহু। বিশেষ সতর্কতা: জালি বা বেষ্টনীর ভেতরে দেখার চেষ্টা কিংবা উঁকি দেওয়া অনুচিত। ছবি তোলা বা ভিডিও করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। ৪. কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ নবীজি (সা.)-এর সামনে নিজের ঈমানের সাক্ষ্য দিয়ে কালেমায়ে শাহাদাত পড়া। আরবি: أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُه উচ্চারণ: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহু, ওয়া-আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহূ ওয়া-রাসূলুহু। ৫. তাওবা-ইস্তিগফার ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফায়াত কামনা খালেস দিলে আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফায়াত কামনা করা। আরবি দোয়া: يَا رَسُولَ اللَّهِ، سَمِعْتُ اللَّهَ يَقُولُ: وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذ ظَّلَمُوا أَنفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا، قَدْ جِئْتُكَ مُسْتَغْفِرًا مِنْ ذُنُوبِي، مُسْتَشْفِعًا بِكَ إِلَى رَبِّي. উচ্চারণ: ইয়া রাসূলাল্লাহি, সামি‘তুল্লাহা ইয়াকূলু: ওয়ালাও আন্নাহুম ইয্ যালামু আনফুসাহুম জা-উকা ফাস্তাগফারুল্লাহা ওয়াস্তাগফারা লাহুমুর রাসূলু লাওয়াজাদুল্লাহা তাওয়াবার রাহীমা, ক্বাদ জি’তুকা মুস্তাগফিরান মিন যুনুবী, মুস্তাশফি‘আন বিকা ইলা রব্বী। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২৬৫, আল আযকার, পৃ. ৩৫২) এভাবেও করা যায়—দরুদ পাঠ ও নবীজির উসিলায় দোয়া: صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكَ وَسَلَّمَ عَلَيْكَ وَعَلَى آلِكَ وَأَصْحَابِكَ، وَجَزَاكَ اللَّهُ عَنَّا خَيْرَ الْجَزَاءِ، اللَّهُمَّ آتِهِ الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ الْمَقَامَ الْمَحْمُودَ الَّذِي وَعَدْتَهُ. উচ্চারণ: সাল্লাল্লাহু ওয়া-সাল্লামা আলাইকা, ওয়া-আলা আ-লিকা ওয়া-আসহাবিকা, ওয়া-জাযাকাল্লাহু আননা খাইরাল জাযা। আল্লাহুম্মা আ-তিহিল ওয়াসীলাতা ওয়াল-ফাযীলাহ। ওয়াবআছহুল মাকামাল মাহমুদাল্লাযী ওয়াআত্তাহু। ৬. অন্যদের পক্ষ থেকে সালাম পেশ রওযায়ে আকদাসে (মসজিদে নববীতে) অন্যদের পক্ষ থেকে সালাম পেশ করার পদ্ধতি হলো, এভাবে দোয়া করা— “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি ঈমান আনা এবং আপনার নাম উচ্চারণকারী কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ও প্রিয়জন আপনার দরবারে সালাম পেশ করেছেন। আপনি তাদের সালাম কবুল করুন এবং তাদের জন্য আপনার রবের নিকট মাগফিরাত প্রার্থনা করুন। তারাও আপনার শাফাআতের প্রত্যাশী ও আশাবাদী।” আর যদি আরবিতে সালাম পেশ করতে চান, তাহলে এভাবে বলবেন, আরবি: الصَّلاَةُ وَ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ! فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ يُسَلِّمُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা ইয়া ইয়া রাসুলাল্লাহ, ফুলান ইবনে ফুলান য়ুসাল্লিমু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ। এখানে ‘ফুলান ইবনু ফুলান’-এর স্থলে যার পক্ষ থেকে সালাম পেশ করা হচ্ছে, সে পুরুষ বা নারীর নাম উল্লেখ করবেন। ৭. হজরত আবু বকর ও হজরত উমর (রা.)-কে সালাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সালাম পেশের পর হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হজরত উমর (রা.)-কে সালাম জানানোর পদ্ধতি হলো— আরবি: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَبَا بَكْرٍ، السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا عُمَرَ উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বাকর, আসসালামু আলাইকা ইয়া উমর। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, ৬৭২৪) মসজিদে নববীতে রওজা মুবারক জিয়ারত মুসলমানের হৃদয়ে গভীর আবেগ ও ভালোবাসার বিষয়। এ জিয়ারতের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় মহানবী (সা.)-এর প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা, দরুদ ও সালাম, বিনয় এবং শরিয়তের আদব অনুসরণের মাধ্যমে। তাই রওজা মুবারকে সালাম পেশের সময় অযাচাইকৃত আমলকে বাধ্যতামূলক মনে না করে নির্ভরযোগ্য দলিলের অনুসরণ করা, অন্য মুসল্লিদের প্রতি সহনশীল থাকা এবং আল্লাহর কাছে খাস দিরে দোয়া করাই প্রত্যেক জিয়ারতকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত। এসএইচ/ |