‘প্রতিবেশীর হক আদায়েই গড়ে উঠতে পারে শান্তিপূর্ণ সমাজ’
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৪৭ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেশীর অধিকার আদায়, জিহ্বার হেফাজত ও অতিথির সম্মান রক্ষার মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সমাজ সংস্কার বিভাগের প্রধান মাওলানা সৈয়দ আজহার মাদানি। তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণকে ঈমানের নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজিনগর, গোন্ডিতে জমিয়তে উলামায়ে গোন্ডির উদ্যোগে আয়োজিত এক দিনের সমাজ সংস্কারবিষয়ক সম্মেলনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটির সভাপতি হাফেজ শামসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

‘সমাজ সংস্কারে প্রতিবেশীর আটটি অধিকার, জিহ্বার হেফাজত ও অতিথির সম্মান’ শীর্ষক আলোচনায় মাওলানা আজহার মাদানি বলেন, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এতে আল্লাহর হকের পাশাপাশি মানুষের অধিকার আদায়েরও শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা সমাজে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি।

তিনি বলেন, জিহ্বা ছোট একটি অঙ্গ হলেও এর প্রভাব অনেক বড়। সুন্দর কথা মানুষের মনে ভালোবাসা সৃষ্টি করে, আর একটি তিক্ত বাক্য দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। তাই ইসলাম সত্য বলা, নম্রভাবে কথা বলা এবং অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর কথাবার্তা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দিয়েছে।

অতিথির সম্মান ও আপ্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতিথির প্রয়োজনের প্রতি খেয়াল রাখা, সাধ্যমতো তার সেবা করা এবং তার সঙ্গে সদাচরণ করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক শিক্ষা। অতিথিপরায়ণতা ঈমান, উত্তম চরিত্র ও উন্নত সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

একটি আদর্শ সমাজ গঠনে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাওলানা আজহার মাদানি বলেন, প্রতিটি পরিবার প্রতিবেশীর স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি খেয়াল রাখলে, সামর্থ্যবানরা অসহায় প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ালে এবং মানুষ পরস্পরের সম্মান রক্ষা করে বিরোধ মীমাংসায় আলোচনার পথ বেছে নিলে সমাজে শান্তি ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি হবে।

সম্মেলনে মহারাষ্ট্র জমিয়তে উলামার সভাপতি ও মহারাষ্ট্রের উপ-আমিরে শরিয়ত মাওলানা হালিমুল্লাহ কাসেমি ‘হালাল উপার্জনের গুরুত্ব ও বরকত এবং সমাজ সংস্কার’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সমাজ সংস্কারে অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম, ব্যবসায়ী ও তরুণদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।

মহারাষ্ট্র জমিয়তে উলামার সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি হাফিজুল্লাহ কাসেমি বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় ও সমাজে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অনাচার নিয়ে আলোচনা করেন। এসব সমস্যা দূর করতে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্র জমিয়তে উলামার কোষাধ্যক্ষ মাওলানা ইশতিয়াক আহমদ কাসেমি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুহাম্মদ ইউসুফ কাসেমি।

ক্বারি সাইফুল বারির কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলন শুরু হয়। পরে মাওলানা আহমদ হুসাইন কাসেমি ও মুফতি শারাফুদ্দিন আজমি নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন করেন। জমিয়তে উলামায়ে গোন্ডির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদর আলম কাসেমি সংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবেদন তুলে ধরেন এবং উপস্থিত আলেম, অতিথি ও শ্রোতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সম্মেলন সফল করতে জমিয়তে উলামায়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুম্বাইয়ের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ উসাইদ কাসেমি, গোন্ডি শাখার কোষাধ্যক্ষ মুফতি মুহাম্মদ আহমদ, মাদরাসা আশরাফিয়া গিয়াসুল উলুমের শিক্ষক মাওলানা আশরাফ আলী নোমানি, মাওলানা রিয়াজ আহমদ মাযাহিরি, জামিয়া খাদিজাতুল কুবরা লিলবানাতের মাওলানা নাসিম আহমদ নদভি, কারি মুহাম্মদ ইউসুফসহ স্থানীয় শাখার দায়িত্বশীলরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/