
|
সাইবার সুরক্ষা আইন অপব্যবহার করবে না বর্তমান সরকার: ডা. জাহেদ
প্রকাশ:
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:৫৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের পথ হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মিডিয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে সরকারের কোনও লাভ নেই। এ ধরনের কাজ স্বৈরাচারী সরকারই করে। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলেও বর্তমান সরকার তা আগের সরকারের মতো অপব্যবহার করবে না। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন ও গণমাধ্যমের প্রস্তাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা এককভাবে দখলে রেখে গণমাধ্যমের ওপরও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছিল। বর্তমান সরকারের এমন কোনও অভিপ্রায় নেই। এই সরকার গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনটি এখনও প্রস্তাবিত পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্তভাবে পাস বা কার্যকর হয়নি। ফলে গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এই সরকার হাসিনা সরকার হবে না মন্তব্য করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগামী দিনেও সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হতে চায়। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন, যা দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেবে। একই সঙ্গে অনলাইনে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া বন্ধেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনলাইনভিত্তিক নতুন ধরনের সাংবাদিকতা ও মনিটাইজেশনকে নীতিমালার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকতার নতুন নতুন ধরন তৈরি হওয়ায় এসব বিষয়কে নীতিমালার কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজন রয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, যদি গুজব, মিথ্যাচার ও অপতথ্য ছড়ানো হয়, তাহলে একই আইনি কাঠামো সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষ-বিপক্ষ বিবেচনা না করে একই কাঠামোর আওতায় ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনলাইন মাধ্যমে ‘ডিসইনফরমেশন’ বা অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অপতথ্য তৈরি ও প্রচার রোধে কার্যকর আইনি বিধান থাকা জরুরি। অতীতে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাধানোর ঘটনাও ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের জন্য প্রস্তাবিত ১০ বছরের সাজাকে তিনি অতিরিক্ত মনে করেন না। তবে আইনটির চূড়ান্ত রূপ যাই হোক না কেন, তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। আইও/ |