একতরফা অভিযান ও ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের উদ্বেগ
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৯ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একতরফা প্রশাসনিক অভিযান, ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন, মব লিঞ্চিং এবং মসজিদ-মাদরাসা উচ্ছেদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। এসব বিষয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ ও অনুভূতি তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রক্ষায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন ফোরামে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মাহমুদিয়া লাইব্রেরিতে সংগঠনটির মজলিসে আমেলার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি, সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শরিয়তে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা, উপাসনালয়, মসজিদ ও ইসলামি মাদরাসাগুলোর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসেমি আগের বৈঠকের কার্যবিবরণী পাঠ করেন। পরে তা অনুমোদন করা হয়।

বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ, বিশেষ করে নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে তৈরি পরিস্থিতি, মব লিঞ্চিং, বুলডোজার অভিযান এবং মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। এসব বিষয় উচ্চ সাংবিধানিক পর্যায়ে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হবে। এ সাক্ষাতে এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ ও তাদের অনুভূতির কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবে জমিয়ত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনি ফোরামেও বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একতরফা পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের কার্যকর আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

মাওলানা মাদানি বলেন, কোনো একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি স্থান বা একটি রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একই ধরনের ঘটনা সামনে আসছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে এমন সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ। এর সঙ্গে যদি বিচারব্যবস্থার কাছ থেকেও কার্যকর আইনি সুরক্ষা ও দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার অনুভূতি কমে যায় এবং কোনো একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয় যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় তাদের জন্য কার্যকর কোনো পথ অবশিষ্ট নেই, তাহলে তা কোনো দেশ বা সমাজের জন্য ভালো পরিস্থিতি নয়।

জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনটি সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি পথ ব্যবহার করবে। তিনি ভারতের মুসলিম ও সাধারণ নাগরিকদের হতাশ বা ভীত না হয়ে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নিজেদের অধিকার রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ভারত তাদের দেশ এবং তারা এ দেশের সমান নাগরিক। নিজেদের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার রক্ষা করা তাদের মৌলিক অধিকার। এসব অধিকার রক্ষায় ভারতের সংবিধান যে আইনি ও গণতান্ত্রিক পথগুলো দিয়েছে, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সেগুলো ব্যবহার করবে।

মাওলানা মাদানি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যেখানে সাংবিধানিক অধিকার, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের বিষয়ে কার্যকরভাবে কথা বলা সম্ভব, সেখানেও বিষয়টি তুলে ধরা হবে। সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আইনের শাসন বজায় রাখা এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পরিচয় রক্ষায় সংগঠনটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

বৈঠকে এসব বিষয় ছাড়াও সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানি, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দিন কাসেমি, দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, সহসভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান বিজনৌরি, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা কারি শওকত আলী, স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাওলানা রহমতুল্লাহ মীর কাশ্মীরি, নায়েবে আমিরে হিন্দ মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ সালমান মনসুরপুরি, মুফতি মুহাম্মদ আফফান মনসুরপুরি, মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, মাওলানা আবদুল কাওয়ি, মুফতি জাভেদ ইকবাল কাসেমি, মাওলানা রাশিদ আজমি, হাজি মুহাম্মদ হারুন, মুফতি ইফতেখার আহমদ কাসেমিসহ বিভিন্ন রাজ্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আইও/