
|
গাজী নজরুলের দ্বিতীয় বিয়ে শরিয়াহসম্মত হয়নি!
প্রকাশ:
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাদের বিয়ের শরিয়াহসম্মত বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, গাজী নজরুল ছিলেন তার আপন খালু। অন্যদিকে নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ছিলেন মরিয়মের দাদি মাছুমার আপন বোন। ফলে মাকসুদা ও মরিয়মের পারিবারিক সম্পর্ক এবং একই সময়ে তাদের দুজনের সঙ্গে গাজী নজরুলের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসলামি শরিয়তে একজন পুরুষের জন্য এমন দুই নারীকে একই সময়ে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ, যাদের একজন অন্যজনের খালা বা ফুফু। সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো নারী ও তার ফুফু এবং কোনো নারী ও তার খালাকে একই পুরুষের বিবাহবন্ধনে একত্র করতে নিষেধ করেছেন। সহিহ মুসলিমের আরেক বর্ণনায় ইবনে শিহাব (রহ.) বলেন, স্ত্রীর বাবার খালা ও স্ত্রীর বাবার ফুফুকেও একই বিধানের আওতাভুক্ত মনে করা হতো। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞাটি শুধু সরাসরি খালা বা ফুফুর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; নিকটবর্তী ঊর্ধ্বতন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ফিকহে এর প্রয়োগের আলোচনা রয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর মাজমুউল ফাতাওয়া-তেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সেখানে স্ত্রী ও তার বাবার খালা কিংবা মায়ের খালাকে একই পুরুষের বিবাহবন্ধনে একত্র করার বিষয়টি নিষিদ্ধ সম্পর্কের আওতায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের বিধান নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। ফিকহের এ বিধান সামনে রেখে, মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর বক্তব্যে বর্ণিত পারিবারিক সম্পর্ক সঠিক হলে মাকসুদা ইসলাম ছিলেন মরিয়মের বাবার আপন খালা। অর্থাৎ মাকসুদা ছিলেন মরিয়মের পিতার খালা। ফলে মাকসুদার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় মরিয়মকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করা হয়ে থাকলে, ওই বিয়ের শরিয়াহগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুনকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আইও/ |