পড়তে-লিখতে জানেন না, তবু ৭১ বছর বয়সে হাফেজা হলেন মিসরীয় নারী
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 

পড়তে বা লিখতে জানেন না। কুরআনের অক্ষরও বই দেখে পড়ার সুযোগ ছিল না। অথচ মনের গভীরে ছিল আল্লাহর কালামের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা থেকেই শুনে শুনে, বারবার অনুশীলন করে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছেন মিসরের ৭১ বছর বয়সী হাজিয়া সানা আবদুস সাত্তার।

মিসরের একটি গ্রামের এই প্রবীণ নারী ছোটবেলা থেকেই কুরআনের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। রেডিওতে কুরআন তেলাওয়াত শুনতেন নিয়মিত। আর সেই তেলাওয়াত শুনতেই শুনতেই তার হৃদয়ে কুরআনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে যৌবনে তিনি কুরআন মুখস্থ করার যাত্রা শুরু করেন।

তবে তার এই পথ ছিল মোটেও সহজ নয়। বিয়ের পর সংসারের দায়িত্ব বেড়ে যায়। তিন ছেলের লালন-পালনের পাশাপাশি সংসারের নানা দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার স্বামী। প্রায় ছয় মাস স্বামীর সেবাকেই নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে নেন তিনি। ফলে ওই সময়ে কুরআন মুখস্থ করার কাজ বন্ধ রাখতে হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পরও জীবনের নানা সংকটে তার কুরআন মুখস্থের পথ কয়েক দফা থেমে যায়। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার কুরআনের কাছে ফিরে আসেন। খুঁজে নেন এমন কিছু নারীকে, যাদের সঙ্গে বসে কুরআন মুখস্থ করা এবং আগে মুখস্থ করা অংশগুলো পরস্পরকে শুনিয়ে অনুশীলন করা যায়।

বর্তমানে ২০ জনের বেশি নারীর সঙ্গে নিয়মিত কুরআনের মজলিসে অংশ নেন হাজিয়া সানা। বিভিন্ন বয়সী এসব নারী একে অপরকে কুরআন শুনিয়ে থাকেন এবং মুখস্থ করা অংশগুলো বারবার ঝালিয়ে নেন। তার এক প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুও পড়তে-লিখতে জানেন না। তিনিও পুরো কুরআন মুখস্থ করেছেন।

হাজিয়া সানার কুরআন মুখস্থ করার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হলো একদিন ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু করে মাগরিব পর্যন্ত পুরো কুরআন মুখস্থ থেকে শোনানো। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে তিনি কুরআন তেলাওয়াত করেন। তার তেলাওয়াত খুব দ্রুত ছিল না; স্বাভাবিক ও পরিমিত গতিতে পড়ায় পুরো কুরআন শেষ করতে প্রায় সারাদিন সময় লাগে।

হাজিয়া সানার জীবনকাহিনি শুধু একজন ৭১ বছর বয়সী নারীর কুরআন মুখস্থ করার গল্প নয়। এটি ধৈর্য, অধ্যবসায় ও আল্লাহর কিতাবের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সংসারের দায়িত্ব, স্বামীর অসুস্থতা, তার মৃত্যু এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতা—সবকিছুই কোনো না কোনো সময় তার কুরআন শেখার পথ থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কুরআনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি। সুযোগ পেলেই তিনি আবার ফিরে এসেছেন সেই পথে।

তার জীবন যেন মনে করিয়ে দেয়—কুরআনের পথে চলার গতি কখনো ধীর হতে পারে, কখনো সাময়িক বিরতিও আসতে পারে। কিন্তু অন্তরে যদি আল্লাহর কিতাবের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকে, তাহলে থেমে যাওয়া পথও আবার শুরু করা সম্ভব।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/