
|
জুমার গুরুত্বপূর্ণ আমল
প্রকাশ:
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| আবদুর রউফ আশরাফ || সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে শুক্রবার যেন মুমিনের জন্য এক বিশেষ উপহার। কর্মব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা পেরিয়ে এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় দুনিয়ার ছুটে চলার মাঝে একটু থামতে হবে, নিজের দিকে ফিরে তাকাতে হবে, ফিরে যেতে হবে মহান আল্লাহর দিকে একজন মুমিনের জন্য এটি তওবা, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের একটি বিশেষ সুযোগ। জুমার দিনটি শুরু হতে পারে পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে। গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সময়মতো মসজিদের দিকে যাওয়া এসবের মধ্যেও রয়েছে সুন্নাহর সৌন্দর্য। মসজিদের পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হতে পারে আমি আজ আমার রবের দরবারে যাচ্ছি। এই অনুভূতিটুকু যদি অন্তরে জাগে, তবে ইবাদতের স্বাদও বদলে যেতে পারে। শুক্রবারে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা, সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা এবং জুমার নামাজ মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা এসব আমলের মাধ্যমে দিনটিকে অর্থবহ করে তোলা যায়। শুক্রবারের বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল: গোসল ও পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। দুরুদ পাঠ: বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা, জুমার দিনের আরেকটি বিশেষ আমল হলো বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কেননা যে ব্যক্তি জুমার দিনে আমার ওপর দরুদ পাঠ করে, তার সেই দরুদ আমার নিকট পেশ করা হয়।’ সুরা কাহাফ পাঠ: জুমার দিনের একটি বিশেষ আমল হলো সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এমন এক নূর আলোকিত হবে, যা এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার জীবনকে আলোকিত করে রাখবে। দান-সদকা করা: জুমার দিন সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। এদিনের দান-সদকা অন্যদিনের চেয়ে ফজিলতপূর্ণ। কা’ব (রা.) বলেন, আমি কি তোমাদের জুমার দিন সম্পর্কে বলব না? জুমার দিন দান-সদকা করা অন্যান্য দিনে দান-সদকা করার চেয়ে অতি উত্তম আসরের পরের আমল: জুমার দিন একটি সময়ে আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া কবুল করে থাকেন। এ সময়টির ব্যাপারে বিভিন্ন মত থাকলেও বেশির ভাগের মতে সময়টি আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। সূর্যাস্তের মাধ্যমে জুমার দিনের সমাপ্তি ঘটে। কাজেই এই প্রান্তিক পর্যায়ে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা খুবই জরুরি। যেন তা কবুল হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের আলোচনায় বলেছেন, জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলমান বান্দা নামাজ অবস্থায় সে সময়টি লাভ করে এবং আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন। আর তিনি হাত দ্বারা সে সময়ের স্বল্পতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। (বুখারি, হাদিস : ৯৩৫; মুসলিম, হাদিস : ৮৫২) জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিব নামাজের অপেক্ষায় থেকে মাগরিব পর্যন্ত আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণ প্রার্থনা করলে তা কবুলের আশা করা যায়। লেখক: কো-অর্ডিনেটর, ইকরা বাংলাদেশ স্কুল হবিগঞ্জ |