
|
‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ হিসেবে স্বীকৃতি চায় আটকে পড়া পাকিস্তানিরা
প্রকাশ:
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৮ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’ পরিচয়ের বদলে সরকারি নথিতে ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের ১৯৭১ সালে আটকে পড়া উর্দুভাষী ক্যাম্পের বাসিন্দারা। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন, পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ এবং ক্যাম্পগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ উর্দুভাষী অধিকার আন্দোলন ও উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটি উদ্যোগে মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের নয়টি জেলার ১১৬টি ক্যাম্পে প্রায় চার লাখ উর্দুভাষী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্যে বাস করছেন। আটকে পড়া এসব পাকিস্তানি ক্যাম্পের পরিবারগুলো মাত্র ৮ ফুট বাই ৮ ফুটের ছোট একটি ঘরে বসবাস করায় তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে এই জনগোষ্ঠীকে বিভিন্ন সময়ে বিহারী, আটকে পড়া পাকিস্তানি, ‘অবাঙালি’সহ বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়েছে। এতে তাদের বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় অধিকার নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাই, রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের পরিচয় সংকটের অবসান হবে। উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, নাগরিকত্বের বিষয়টি স্পষ্ট করতে উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর কয়েকজন তরুণ উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সাল থেকে ক্যাম্পের বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরিচিতি প্রতিষ্ঠা করেছেন। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ‘আটকে পড়া’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ পরিচয় নতুন প্রজন্মের সামাজিক মর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের ‘আটকে পড়া’ পরিচয়ের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘উর্দুভাষী বাংলাদেশি’ পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়া হলে দীর্ঘদিনের পরিচয় সংকটের অবসান হবে। একই সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্যাম্পবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, আবু রায়হান, সানজিদা খাতুন, হামিদা খাতুন, নূর হাসান মোলায়েম, বুনদিয়া বেগম, ইসমাইলসহ বিভিন্ন ক্যাম্পের নেতারা। এতে সৈয়দপুরের বিভিন্ন আটকে পড়া পাকিস্তানি ক্যাম্পের প্রায় দেড় হাজার নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসএইচ/ |