এশা পড়ে গেলেন মুসল্লিরা, ফজরে এসে দেখেন মসজিদ বিলীন
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন মুসল্লিরা। রাত পেরিয়ে ফজরের নামাজ পড়তে এসে দেখেন, যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদ, সেখানে এখন শুধু পদ্মার উত্তাল জলরাশি। রাতের আঁধারে তীব্র নদীভাঙনে পুরো মসজিদটি বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার এই মসজিদটি গত দুই দিনের ভয়াবহ ভাঙনে পদ্মার গর্ভে চলে যায়। মসজিদটি হারিয়ে এখন খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসল্লিরা।

মাদ্রাসার ছাত্র সোহেল বলেন, ‘শুক্রবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদ্রাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজরের নামাজ পড়তে এসে দেখি, মসজিদটি নেই। নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা মাঠে নামাজ আদায় করছি।’

উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোতে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা এখন উত্তাল। তীব্র স্রোতের আঘাতে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। একের পর এক নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও অন্যান্য স্থাপনা।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে ভাঙন চলছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুললেও প্রবল স্রোতে এর বড় অংশ ধসে পড়েছে। এখনো ভাঙনরোধে বালুর বস্তা ফেলার কাজ চলছে।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু বলেন, ‘আগে এখানে ছোট একটি নদী ছিল। ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কারণে নদীটি গভীর ও বড় হয়ে গেছে। এতে এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের খানকা মাদ্রাসার অনেক অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মসজিদটিতেও শুক্রবার রাতে এশার নামাজ পড়েছি। কিন্তু ফজরের নামাজ পড়তে পারিনি। এর আগেই মসজিদটি নদীতে ধসে গেছে।’

মাদানী কমপ্লেক্স মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে। ইতোমধ্যে আমাদের মাদ্রাসার প্রায় ১০০ শতাংশ জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি, এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়িঘর, মসজিদ—সবই পদ্মায় চলে যাচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হোসেন লিটন খান বলেন, ‘মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছর এখানে বড় মাহফিল হয়। সেই মাঠটিও নদীতে চলে গেছে। প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।’

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জামাল বলেন, ‘আগে নদীটি ছোট ছিল। গত কয়েক বছরে আশপাশের অনেক বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখন মাদ্রাসার মসজিদটিও ভেঙে গেল।’

রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন ও জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকায় কাজ করছি।’

সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে রয়েছে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

আইও/