ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে জানানো হলো যে ৮ দাবি
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাদপন্থীদের ইজতেমা ময়দানে কার্যক্রম ও প্রবেশ বন্ধ রাখাসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আয়োজিত সংগঠনটির সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে কেরাম, মাশায়েখ, কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সম্মেলনে বক্তারা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান পরিস্থিতি এবং এ বিষয়ে সরকারের করণীয় নিয়ে বক্তব্য দেন।

সম্মেলন থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবি:

১. টঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার: টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে দায়ের করা জিআর ও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে।

২. নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি: টঙ্গীর হত্যাকাণ্ড ও সংঘর্ষে নিহত-আহতদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. অপরাধীদের কোনো ছাড় নয়: হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে পক্ষেরই হোক, তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল: টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের বিষয়ে পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। সাদপন্থীদের সেখানে ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া যাবে না।

৫. সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাদপন্থীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ বা কোনো কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৬. বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক প্রচারণার অভিযোগে ব্যবস্থ: ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মামলাগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধীরা বিচার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বলে দাবি করেন সম্মেলনের আয়োজকরা।

তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি ওয়াসিফুল ইসলাম, রেজা আরিফ, ওয়াসিফের ছেলে ওসামা এবং সায়েম বিদেশি নাগরিকদের কাছে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশি দূতাবাসগুলোতে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওলামায়ে কেরামদের বিষয়ে বিদেশিদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দায়েরের দাবি জানানো হয়।

৭. আলেমদের পরামর্শে তাবলিগের সমস্যার স্থায়ী সমাধান: দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কেরামের পরামর্শের ভিত্তিতে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যাগুলো নিরূপণ করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে বৃহত্তর আলেম সমাজের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।

৮. শান্তি-শৃঙ্খলা ও দ্বীনি পরিবেশ রক্ষায় বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত: দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, দ্বীনি পরিবেশ ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দাওয়াত ও তাবলিগের বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে বিচারহীনতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। লিখিত বক্তব্যে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমা শুরায়ী নিজামের অধীনে আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা, কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, দাওয়াত ও তাবলিগ একটি দ্বীনি মেহনত। এ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ ও তাবলিগের সাথীদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে।

সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারী। শেষে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও দ্বীনের সঠিক মেহনতের জন্য দোয়া করা হয়।

আইও/