বাজারমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:২২ রাত
নিউজ ডেস্ক

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো যুবসমাজ। প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার যে ‘স্কিল মিসম্যাচ’ রয়েছে, তা দূর করে বাজারমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) আয়োজিত চাকরি মেলা ও ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আজকের এই চাকরি মেলা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে একটি কার্যকর সেতু হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতাকে কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রান্তিক মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা যদি কাজে লাগানো যায় তাহলে ২-৩ বছরের মধ্যে একটি পরিবারে স্বাবলম্বিতা আসবে। এক্ষেত্রে তিনি চীনের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ যেন আইনি সহায়তার বাইরে না থাকে এ ব্যবস্থা সরকার নিচ্ছে। যেসব এমএফআই আইনি সহায়তা নিয়ে কাজ করছে তাদের সঙ্গে সরকার এমওইউ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিভিন্ন দেশের আইন বিচার-বিশ্লেষণ করে সরকার মানুষের কল্যাণে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এমআরএর মাধ্যমে যেসব এমএফআই কাজ করছে তারা কেউ প্রতিষ্ঠানের মালিক না, তারা একটি পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়- বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। 

এর আগে সকালে চাকরি মেলা উদ্বোধন করেন ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী পরিচালক নূরে আলম মেহেদী, পরিচালক আবদুল মান্নান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

সরেজমিন দেখা যায়, যশোরে চাকরি মেলায় উপচেপড়া ভিড়ে দশ সহস্রাধিক চাকরিপ্রার্থী সমবেত হন। চাকরি মেলায় প্রত্যাশীদের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। একপর্যায়ে মেলায় হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী সমবেত হন।

আয়োজকরা জানান, চাকরি মেলায় ৩৬টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা-এনজিও অংশ নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ১০ হাজার চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় ৩৩ হাজার সিভি (আবেদন) পাওয়া গেছে। এই মেলায় সরাসরি সিভি বাছাই ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এক হাজার ১১৫ জনকে ঋণ কর্মকর্তা, হিসাবরক্ষক, শাখা ব্যবস্থাপকসহ বিভিন্ন পদে মেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেলায় সংগৃহীত অবশিষ্ট সব সিভি থেকে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আরও তিন হাজার চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদান করা হবে। 

এসএইচ/