‘কৃত্রিমতার সময়ে নবীজি (সা.)-এর অকৃত্রিম জীবনই বড় শিক্ষা’
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান পৃথিবীর বড় অসুখগুলোর একটি কৃত্রিমতা। সম্পর্ক, আচরণ ও জীবনযাপনে যখন লৌকিকতা ক্রমেই বাড়ছে, তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অকৃত্রিম জীবন ও চরিত্রের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মদিনার বাজারে সাধারণ এক সাহাবি জাহির (রা.)-এর সঙ্গে নবীজি (সা.)-এর স্নেহময় রসিকতার একটি ঘটনা তুলে ধরে এমনই বার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটি তুলে ধরেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি জানান, জাহির (রা.) ছিলেন গ্রামের একজন সাধারণ সাহাবি। বিভিন্ন ফল-ফসল উৎপাদন করে তিনি মদিনার বাজারে বিক্রি করতে আসতেন। মদিনায় এলে তিনি নবীজি (সা.)-এর জন্য গ্রাম থেকে হাদিয়া নিয়ে আসতেন। বিনিময়ে নবীজি (সা.)-ও তাকে শহরের হাদিয়া দিতেন।

জাহির (রা.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর আন্তরিক ও ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, নবীজি (সা.) তাকে বলতেন, ‘জাহির আমাদের গ্রাম আর আমরা জাহিরের শহর।’

শায়খ আহমাদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, একদিন নবীজি (সা.) মদিনার বাজারে গিয়ে জাহির (রা.)-কে পণ্য বিক্রি করতে দেখেন। গ্রামের এই সহজ-সরল সাহাবির সঙ্গে স্নেহময় রসিকতা করার ইচ্ছা হয় তাঁর।

নবীজি (সা.) পেছন থেকে জাহির (রা.)-এর দুই বাহু চেপে ধরেন। এমনভাবে ধরেন যে, জাহির (রা.) তাঁকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। কে তাঁকে ধরেছে বুঝতে না পেরে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘কে তুমি? আমাকে ছাড়ো।’

এরপরই তিনি নবীজি (সা.)-এর কণ্ঠ শুনতে পান। মহানবী (সা.) রসিকতা করে বলেন, ‘কেউ কি আছ, আমার এই গোলামটাকে কিনবে?’

নবীজি (সা.)-এর কণ্ঠ শুনে জাহির (রা.) আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান ও আল্লাহর রাসুল হয়েও একজন সাধারণ গ্রাম্য সাহাবির সঙ্গে তাঁর এমন আন্তরিক রসিকতা ছিল ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ।

এরপর জাহির (রা.) নবীজি (সা.)-এর সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগটি কাজে লাগান। তিনি নিজের পিঠ নবীজি (সা.)-এর দিকে ঠেলে দিয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার মতো সামান্য এক গ্রাম্য মানুষকে বিক্রি করে আপনি কতইবা মূল্য পাবেন!’

জবাবে মহানবী (সা.) মমতামাখা কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষের কাছে তোমার মূল্য সামান্য হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে তোমার দাম অনেক বেশি।’

শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর পোস্টে এই ঘটনাকে মহানবী (সা.)-এর অকৃত্রিম চরিত্র ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব হওয়া সত্ত্বেও মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল সহজ, আড়ম্বরহীন ও লৌকিকতামুক্ত। তাঁর চরিত্রের এই অকৃত্রিম সৌন্দর্য সাহাবিদের হৃদয় জয় করেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, নবীজি (সা.) সাহাবিদের এমনভাবে ভালোবাসতেন ও আপন করে নিতেন যে, প্রত্যেক সাহাবিই মনে করতেন—নবীজি (সা.) বোধহয় তাকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন।

বর্তমান পৃথিবীর বড় অসুখগুলোর একটি কৃত্রিমতা উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, কৃত্রিমতার এই সময়ে নবীজি (সা.)-এর অকৃত্রিম জীবন ও চরিত্রের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

লৌকিকতামুক্ত সুস্থ সমাজ গড়তে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের দিকে বারবার ফিরে যেতে হবে বলেও তিনি মত দেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষায়, মাত্র ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে মহানবী (সা.) ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের অন্যতম শক্তি ছিল ভালোবাসা। অনুপম চরিত্র-মাধুর্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর মানুষকে আপন করে নিয়েছেন—যে ভালোবাসার আবেদন কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের হৃদয়ে অমলিন থাকবে।

আইও/