
|
সম্পত্তি হস্তান্তর বিলের প্রতিবাদে শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক বিকেএমের
প্রকাশ:
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:১৯ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক বাবা-মায়ের সুরক্ষার নামে প্রণীত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে ঢাকা মহানগর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হবে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথসভা থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। সভায় মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাবা-মায়ের সুরক্ষার কথা বলে এমন একটি বিল সংসদে পাস করা হয়েছে, যা মুসলিম সমাজের উত্তরাধিকারব্যবস্থা, ফরায়েজ এবং বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। এ বিল গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, বাবা-মা জীবিত অবস্থায় চাইলে সন্তানকে হেবা বা বৈধ উপায়ে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে দেশে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনও রয়েছে। তাহলে নতুন করে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন কেন—সরকারকে তার জবাব দিতে হবে। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, মুসলমানের উত্তরাধিকার কোনো সামাজিক রীতি বা পারিবারিক সমঝোতার বিষয় নয়; এটি আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত বিধান। জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তরের প্রবণতা এমন পর্যায়ে পৌঁছালে মৃত্যুর পর ফরায়েজ বণ্টনের জন্য সম্পত্তিই অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে আইনগতভাবে ফরায়েজ বহাল থাকলেও এর বাস্তব প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, সমাজে মেয়েরা নানা কৌশলে ফরায়েজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে জীবদ্দশায় সম্পত্তি কোনো এক সন্তানের হাতে তুলে দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাবা-মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তবে তা মেয়েদের আল্লাহপ্রদত্ত অধিকার ক্ষুণ্ন করে নয়। তিনি আরও বলেন, শরিয়াহর বিধানকে রাষ্ট্রীয় আইনের ঐচ্ছিক বিকল্প হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতা উদ্বেগজনক। ইসলাম কোনো ‘অপশন’ নয় এবং আল্লাহর বিধানও এমন কোনো বিষয় নয়, যা মানুষ ইচ্ছামতো গ্রহণ বা বর্জন করবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সংসদে পাস হওয়া বিলটি ইসলামি আইন, ফরায়েজ ও সম্পত্তি আইনের বিশেষজ্ঞ আলেম-উলামা এবং আইনজ্ঞদের মাধ্যমে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে এতে সংশোধন আনতে হবে। আর শরিয়াহ ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় থাকলে পুরো বিল বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ধর্মীয় অধিকার ও মুসলিম উত্তরাধিকারব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিলে স্বাক্ষর করা উচিত হবে না। ইসলামবিরোধী কোনো বিল রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পেলে তা জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। তিনি আগামী শুক্রবারের বিক্ষোভ মিছিলে আলেম-উলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন ও মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমদ, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, আইন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শরীফ হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আইও/ |