
|
সাহারানপুরের শতবর্ষী মসজিদ ভাঙায় মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের তীব্র নিন্দা
প্রকাশ:
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৮ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অবস্থিত শত বছরের বেশি পুরোনো একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। সংগঠনটি এ ঘটনাকে আইনের শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রাসুল ইলিয়াস এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গত ১৬ জুলাই সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবৈধ দখল হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে মসজিদ পরিচালনা কমিটি জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর জেলা আদালত আপিল খারিজ করে সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বহাল রাখে। তবে বোর্ডের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছিল যে মসজিদটি শুধু সিলগালা করা হবে। কিন্তু পরদিন ভোর ৪টার দিকে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়। ড. ইলিয়াস বলেন, কোনো স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ থাকলেও তা কোনো ধর্মীয় স্থাপনা তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে ফেলার স্বয়ংক্রিয় বৈধতা দেয় না। মসজিদ পরিচালনা কমিটির উচ্চ আদালতে যাওয়ার আইনি সুযোগ অবশিষ্ট থাকলে কার্যকর আইনি প্রতিকারের সুযোগ না দিয়ে মসজিদ ভেঙে ফেলা ন্যায়বিচার ও প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতির পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জমিটির মালিকানা দাবি করে, তাহলেও আইন, স্বচ্ছ শুনানি ও প্রাকৃতিক ন্যায়ের নীতি অনুসরণ করতে হবে। সরকারি জমি হওয়ার দাবি রাষ্ট্রকে আইনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দেয় না। ভারতের সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২৫ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে সমতা, ন্যায়সংগত আইনগত প্রক্রিয়া এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বোর্ডের মুখপাত্র জানান, মসজিদটি ভেঙে ফেলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি পুরোনো কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) সেটি পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এ পরিস্থিতিতে মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সরকারি নথি এবং জমির মালিকানা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড মসজিদ ভাঙার ঘটনায় কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো— মসজিদ ভাঙার পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও আইনগত তদন্ত করতে হবে। মসজিদটি ভাঙার আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। মসজিদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, জমির রেকর্ড ও ওয়াক্ফ-সংক্রান্ত সব নথি পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করতে হবে। মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কার্যকর সুযোগ দিতে হবে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ড. ইলিয়াস বলেন, ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধের সমাধান বুলডোজার দিয়ে নয়; বরং আইন, আদালত ও সংবিধানের মাধ্যমে করতে হবে। আইনের শাসনের দাবি হলো—রাষ্ট্রকে প্রত্যেক নাগরিক ও প্রতিটি ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষেত্রে একই আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড আশা প্রকাশ করেছে, মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়টি উচ্চ আদালতে নিয়ে যাবে এবং আদালত এর আইনগত ও সাংবিধানিক দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে। এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি ও নৈতিক সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বোর্ড। সূত্র: ইউএনএ নিউজ আইও/ |