কোনো বিদেশি আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না: শায়খে চরমোনাই
প্রকাশ: ১০ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো বিদেশি আধিপত্যবাদী তৎপরতা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অতীতে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। প্রয়োজন হলে জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক গোষ্ঠী সময়-সময় ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণাকে সামনে এনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের চিন্তাধারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়।

শায়েখে চরমোনাই বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চায় এবং কোনো বিদেশি শক্তির কর্তৃত্ব বা প্রভাব মেনে নেবে না। তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা। কিন্তু কিছু মহল ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহার করে বিভাজন সৃষ্টি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ দেশের ঐতিহ্য। কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা বৈষম্য সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

সাম্প্রতিক সময়ে আবারও ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ফয়জুল করিম বলেন, এর মাধ্যমে আলেম-ওলামা, কওমি মাদ্রাসা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক জনমত তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশ পরিচালনা করতে হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে দলটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চায় না; তবে অতীতের শাসকদের পথ অনুসরণও কাম্য নয়। সরকার যদি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটতে হবে।

গাজী আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই বক্তব্যে দুই দেশের স্বার্থকে একাকার করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরও কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বিশেষ করে জুলাই সনদে উল্লেখিত আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেন তিনি।

সমাবেশ শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আইও/