সাহারানপুরে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ওয়াইসি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর কালেক্টরেটে থাকা একটি মসজিদ ভোর ৫টায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান ও লোকসভা সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারও কি এখন আর অবশিষ্ট নেই?

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ওয়াইসি বলেন, মুসলমানদের ইবাদতের স্থানগুলোতে বারবার দুর্বল ও মনগড়া কারণ দেখিয়ে কেন বুলডোজার চালানো হচ্ছে। সহারানপুরের ওই মসজিদটি কালেক্টরেট ভবন নির্মাণের আগে থেকেই সেখানে ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, মসজিদ কমিটি আদালতে ১৯১১ সালের নথিপত্র উপস্থাপন করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে, কালেক্টরেট নির্মাণের আগেই সেখানে মসজিদটি ছিল এবং এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে সেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়ে আসছে।

ওয়াইসির দাবি, এটি সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত কোনো স্থাপনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি এ অবস্থাকে আইনে স্বীকৃত ‘ওয়াকফ বিল-ইস্তেমাল’ (ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়াকফ)-এর ভিত্তির সঙ্গে তুলনা করেন।

ভারতীয় Limitation Act-এর নীতির উল্লেখ করে ওয়াইসি বলেন, কোনো জমি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে ও ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসার পর সরকার হঠাৎ করে তা উপেক্ষা করে একদিন বলতে পারে না যে, এখন থেকে জমিটি তাদের।

তার ভাষ্য, সরকারের দাবি মেনে নিলেও এত দীর্ঘ সময়ের দখল ও ব্যবহারের পর adverse possession-এর প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে।

ওয়াইসি বলেন, ‘মসজিদ আগে ছিল, কালেক্টরেট পরে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, কারও কারও হয়তো মসজিদ দেখলেও আপত্তি হতে পারে। কিন্তু সেটি তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা। কোনো স্থাপনা দেখে কারও অসুবিধা হলে তিনি চোখ ফিরিয়ে নিতে পারেন; কিন্তু নিজের অসন্তোষ প্রকাশের জন্য মুসলমানদের মসজিদে বুলডোজার চালানো যেতে পারে না।

ঘটনাটি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের সমালোচনা করে মসজিদের ঐতিহাসিক অস্তিত্ব ও ধর্মীয় অধিকার বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান।

সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু

আইও/