
|
নেপালে হিমবাহধস: ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে ২ জন জীবিত উদ্ধার
প্রকাশ:
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের ৯ দিন পর ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওই দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন। নেপালে ওই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এখনো ওই সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত উদ্ধারস্থল থেকে বিবিসিকে বলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সুরেশ রাউত বলেন, উদ্ধারের পর সঞ্জয় শাহকে উড়োজাহাজে রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তর-পশ্চিমে বাত্তার এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কবির মহারাজনকে তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর ছাউনি সামরিক হাসপাতালে নেন। কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানান, প্রথম উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় শাহ কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তবে দ্বিতীয় ব্যক্তি কবির মহারাজন উদ্ধারের পর হাসছিলেন। তিনি অন্যদের ধন্যবাদ দেন। সঞ্জয় শাহ নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মী বলে ওই বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান। তাঁর সহকর্মী সুরেশ চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, ‘আমি ভীষণ খুশি। এ খবরের অপেক্ষায় ছিলাম। এতে আশা জেগেছে যে অন্যদেরও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।’ দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওর বরাত দিয়ে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেলের কাদামাখা একটি ফাঁক দিয়ে একজনকে টেনে বের করে আনা হচ্ছে। এ সময় উদ্ধারকারীরা উল্লাস করেন। পরে উদ্ধারকারীদের সহায়তায় তিনি উঠে দাঁড়ান। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরেকটি ছবিতে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে কাদায় মাখামাখি অবস্থায় দেখা যায়। উদ্ধারকারীরা তাঁকে কমলা রঙের স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর দুই হাত ছিল প্রার্থনার ভঙ্গিতে জোড়া করা। নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেন, উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী সঞ্জয় শাহ যান্ত্রিক ফোরম্যান এবং ৪৫ বছর বয়সী কবির মহারাজন যান্ত্রিক সুপারভাইজার। কবির মহারাজনের ভাই আমির মহারাজন এএফপিকে বলেন, ‘আমি খুব খুশি, আমার মনটা হালকা লাগছে।’ দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা নিশ্চিত করেছেন, ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে প্রথমে একজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর উদ্ধার করা হয় দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও। বিশাল উদ্ধার অভিযান আকস্মিক কাদাপানির ঢলের পর নেপালে এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে কয়েক শ শ্রমিক নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে কাজ করছিলেন। আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে বড় পরিসরে অভিযান চলছে। প্রকৌশলীরা সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে বাতাস পাম্প করছেন, যাতে ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো যায়। শুধু ত্রিশূলী ৩এ প্রকল্প নয়, আরও অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে পৃথক উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব সুড়ঙ্গে ১৫০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গেই আটকা পড়েছিলেন। ভয়াবহ এই আকস্মিক দুর্যোগে নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৯ দিন পর দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। আইও/ |