
|
‘আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীদের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়’
প্রকাশ:
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৬ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা পুরুষের তুলনায় কোনো অংশে কম নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিসের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যুগে মুসলিম নারীরা জ্ঞানচর্চা, ইসলাম প্রচার, নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ ডিসিসি হলে বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিস আয়োজিত ‘আদর্শ সমাজ গঠনে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নাসরিন কাদেরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদিকা রায়হানা মালিক লোপার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উম্মে মাহদী। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় ইনসাফ, মানবাধিকার, সুশাসন, শিক্ষা ও নৈতিক উৎকর্ষের ভিত্তিতে যে সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজও বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়। তিনি বর্ণ, গোত্র ও সামাজিক মর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সমান অধিকার এবং নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। তারা বলেন, শাসক ও প্রশাসকদের জন্য জনকল্যাণ, নম্রতা ও ইনসাফকে অপরিহার্য করে তুলেছিলেন মহানবী (সা.)। ঐতিহাসিক মদিনা সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মাবলম্বী মানুষের নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) দাস-দাসী ও অধীনস্থদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাদের মুক্তি ও কাজের চাপ কমানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাহেলি সমাজের নানা কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করে নারীর সম্মান, অধিকার ও পারিবারিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজে কুরআনের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সর্বস্তরে জ্ঞানার্জনের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেছেন। আলোচনায় নারীদের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মহিলা মজলিসের নেতৃবৃন্দ বলেন, মহানবী (সা.)-এর যুগে মুসলিম নারীরা ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তারা জ্ঞানচর্চা, হিজরত, যুদ্ধকালীন সহযোগিতা, আহতদের সেবা এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তারা বলেন, হযরত খাদিজা, নুসাইবা, সুমাইয়া ও আসমা (রা.)-এর মতো নারীরা ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। হযরত ফাতিমা, উম্মে সালামা ও আয়েশা (রা.)-সহ বহু নারী মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিয়েছেন। বক্তারা বলেন, ওহুদের যুদ্ধে নুসাইবা বিনতে কাব (রা.) মহানবী (সা.)-কে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন। এ ছাড়া আসমা বিনতে উমাইস, উম্মে সুলাইম, আল-রুবাইয়ি বিনতে মুআওয়াযসহ বহু নারী যুদ্ধের সময় আহতদের সেবা-শুশ্রূষায় অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি আদর্শ ও সুখী পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা হিসেবে একজন নারী সন্তানের প্রথম শিক্ষক, নৈতিকতার অন্যতম প্রধান উৎস এবং সুস্থ পরিবারের ভিত্তি। তারা বলেন, মহানবী (সা.) পরিবারে দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ইসলামী শিক্ষায় একজন নারীকে আদর্শ স্ত্রী, মা ও গৃহব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনেও শালীনতা ও ইসলামী বিধিবিধান মেনে নারীর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে। বক্তারা বলেন, আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নারী-পুরুষ সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে নৈতিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। এসএইচ/ |