‘প্রশাসনে ফ্যাসিবাদীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’
প্রকাশ: ০৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:১৯ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার বিষয়ে গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠ পর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনজনিত বিষয় নজরে এলে তাদের সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা রুজু করে শাস্তির বিধান রয়েছে এবং এই তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডোসিয়ারে সংরক্ষণ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়।

তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের সচেতনতা বাড়াতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা ও তদন্ত অনুবিভাগ থেকে ৬টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৮০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং এ বছর আরও ৮টি প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সিভিল সার্ভিসের প্রতিটি বাধ্যতামূলক কোর্সে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নৈতিকতা ও শিষ্টাচার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিন সংসদে সরকারি চাকরির শূন্য পদের একটি বড় খতিয়ান তুলে ধরেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এছাড়া প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোর বিপরীতে কর্মরতদের সংখ্যা উল্লেখ করে তিনি জানান, সচিব ও সিনিয়র সচিবের ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিবের ৩৬৮টি পদের বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিবের ১ হাজার ১১৬টি পদের বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিবের ২ হাজার ২৪৫টি পদের বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বিসিএস পরীক্ষার গতিশীলতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিসিএসে নিয়োগের সুপারিশের সময় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে। যেমন ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে ৩ বছর ৭ মাস সময় লাগলেও, ৪৫তম বিসিএসে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিন, ৪৬তম বিসিএসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিন এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ১ বছর ৭ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীতে ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এক বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারি জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।

সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দৃঢ়তার সাথে বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম