
|
নেপালে টানেলে আটকে থাকাদের উদ্ধারে কাজ করছে ১০ হাজার সেনা সদস্য
প্রকাশ:
৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৪ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নেপালের আকস্মিক বন্যার ফলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধার এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পথ তৈরির কাজ শুরু করেছেন যাতে তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নেপালের পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে আপার ত্রিশুলি প্রকল্পের একটি টানেলে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকে থাকার খবর শুক্রবার কর্তৃপক্ষের কাছে এসেছে। রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেয়। এরপর উদ্ধারকারীরা একটি টানেলের প্রবেশমুখে পৌঁছে সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেন। প্রবেশপথ পরিষ্কার হলে অক্সিজেন সরবরাহ ও ক্যামেরা নিয়ে টানেলের ভেতরে ঢোকার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নেপালের প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞ দলও রয়েছে। টানেল থেকে মানুষ উদ্ধারের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং পচে যাওয়া মরদেহ শনাক্ত করতেও আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, টানেল উদ্ধার অভিযানসহ কয়েকটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এসবের মধ্যে রয়েছে ডিএনএ পরীক্ষা, মরদেহ সংরক্ষণ এবং ফরেনসিক শনাক্তকরণ এদিকে, উদ্ধার অভিযানকে আরও কঠিন করে তুলেছে আবহাওয়া। স্থানীয় পুলিশ রয়টার্সকে জানিয়েছে, নতুন করে বৃষ্টিপাতের ফলে ত্রিশুলি নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের কেউ কেউ উঁচু এলাকায় সরে গেছেন। শুক্রবার থেকে খারাপ আবহাওয়া ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে। নেপাল ও চীন সীমান্তে দুর্যোগের কারণে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে হুমকি তৈরি করা হ্রদটির পানি অনেকটাই কমে যায়। তবে একই এলাকায় নতুন একটি ভূমিধসের সন্ধান পেয়েছে ড্রোন। হ্রদটির প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার ভাটির দিকে ওই ভূমিধসের কারণে নতুন একটি বাঁধের মতো প্রতিবন্ধকতা এবং পানির আধার তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই নতুন করে বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ধ্বংসস্তূপ ও বাড়তে থাকা নদীর পানির কারণে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি পদক্ষেপেই বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ভয়াবহ দুর্যোগের পর নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধারকারীরা হাজারো নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে কাজ করছেন। বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। পথ তৈরির জন্য বিস্ফোরণ ঘটানোর সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিউজ অন এয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আটটি জেলার সবগুলো থেকেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে টানেলের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে এখন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ত্রিশুলি নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার কারণে নতুন করে যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিউজ অন এয়ার জানিয়েছে, গোরখা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ত্রিশুলি নদীর নতুন বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে স্থানীয় কয়েকটি এলাকার সঙ্গে পৃথ্বী হাইওয়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উদ্ধারকারীদের সামনে এখন একসঙ্গে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছানো, টানেলের পথ পরিষ্কার করা, দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো এবং নতুন করে বন্যার ঝুঁকি সামলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া। সূত্র: রয়টার্স, আরএইচ/ |