‘জুলাই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো’
প্রকাশ: ০৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:০১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ছিল এবং অভ্যুত্থান সফল না হলে তাদের অনেককেই ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী হকার্স দলের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুস সালাম বলেন, যদি অভ্যুত্থান সফল না হতো, তাহলে অনেকের কিছুই হতো না। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা, আমরা যারা মাঠে ছিলাম, আমাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হতো। তখন এমন কোনো নেতা-কর্মী ছিল না, যার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ছিল না। 

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে মানুষ নিহত হলেও সেই ঘটনাগুলোর মামলাও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যারা আজ নিজেদের অভ্যুত্থানের নায়ক দাবি করেন, তাদের উচিত নিজেদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা ছিল এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতটি মামলা ছিল, সেই হিসাব করা। তার দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ফেরার কোনো সুযোগ থাকতো না।

বিএনপির আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, দলটি কখনো শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করেনি; বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যেই আন্দোলন করেছে। 

ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণেই জুলাই অভ্যুত্থানের পথ তৈরি হয় এবং সেই ধারাবাহিক আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

তিনি বলেন, বিএনপি আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে। আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলের নেতাকর্মীরা আজ আরও দৃঢ় ও পরীক্ষিত হয়ে উঠেছেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, জনগণের ভোটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। তবে এখনো ষড়যন্ত্র থেমে নেই। যারা দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের কল্যাণ চায় না, তারাই বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

সভায় হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, সিটি করপোরেশন হকার উচ্ছেদ করতে চায় না; বরং শৃঙ্খলার মধ্যে এনে তাদের ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। এজন্য নির্ধারিত স্থানে হকার বসানো, নাইট মার্কেট, সাপ্তাহিক ও হলিডে মার্কেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মতিঝিল, গুলিস্তান, সদরঘাট, নিউ মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নিবন্ধিত হকারদের আইডি কার্ড ও অস্থায়ী অনুমতিপত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা চাঁদাবাজির হাত থেকে রক্ষা পান। একই সঙ্গে মোবাইল টয়লেট, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা, নির্ধারিত সময়ে ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আলোসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

রিকশা চলাচলও পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলার আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য উচ্ছেদ নয়; বরং নাগরিক চলাচল ও জীবিকার মধ্যে একটি সুষম ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আইও