জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি শিক্ষার্থীদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই, ২০২৬, ০৮:১০ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

বক্তব্যে জামিল সিদ্দিকী বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত হন। উত্তাল পরিস্থিতিতে অনেক আন্দোলনকারীকে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আশ্রয় দেওয়া হয়। পাশাপাশি আহতদের জন্য খাবার ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থাও করেন কওমি শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ী মাদরাসার অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম’-এর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তালিকায় অন্তত ৭৯ জন মাদরাসা শিক্ষার্থীর নাম শহীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরামের সভাপতি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কওমি শিক্ষার্থীদের অবদানও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি ছাত্রদের যে ভূমিকা ছিল, তার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং রাষ্ট্রের সর্বস্তরে তাদের সমান গুরুত্ব ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হোক।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

চিফ হুইপের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাইয়ের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়

আরএইচ/