হজ নিবন্ধনে নেই সাড়া, ৩৩ দিনে নিবন্ধিত মাত্র ১২১২ জন
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৩ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

হজের প্রস্তুতি যতটা এগোনোর কথা, নিবন্ধনের গতি ততটাই মন্থর। আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন শুরুর ৩৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন মাত্র ১ হাজার ২১২ জন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর সম্ভাবনা থাকলেও নিবন্ধনে দেখা যাচ্ছে প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম সাড়া।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৯ আগস্ট) পর্যন্ত নিবন্ধিত ১ হাজার ২১২ জনের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫২১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬৯১ জন রয়েছেন।

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয় গত ২৭ জুলাই। সৌদি আরবের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে।

হজ নিবন্ধনে ধীরগতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণার অভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন হজ এজেন্সির মালিকরা। তাদের মতে, সৌদি সরকারের নতুন রোডম্যাপের কারণে এবার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক আগেই নিবন্ধন শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি সাধারণ মানুষ ও হজে আগ্রহীদের মধ্যে যথেষ্টভাবে প্রচারিত হয়নি।

এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একাধিক হজ প্যাকেজ ঘোষণা এবং তিন দিনব্যাপী হজ মেলা শেষ হলেও নিবন্ধনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি।

তবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই এগোচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, যারা হজে যাবেন, তারা অনেক আগে থেকেই নিয়ত করে রাখেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা নিবন্ধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। সৌদি আরবের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী হজের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হজের কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত রয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই এই কোটা পূরণ হচ্ছে না।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ হজ পালন করেন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা আরও কমে প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ জনে নেমে আসে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।

এবারও হজযাত্রীর সংখ্যা কমার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি হজের সামগ্রিক ব্যয়ও সাধারণ মানুষের জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইও/