
|
‘শুধু কার্ডের প্রতিশ্রুতি নয়, জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান করুন’
প্রকাশ:
২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৪ রাত
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে জনগণের জীবনযাত্রা যখন বিপর্যস্ত, তখন শুধু বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএমের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাদ জুমা রাজধানীর দনিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী জোন আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন, বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জনগণের প্রত্যাশা শুধু কার্ড নয়; তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং জীবনযাত্রার সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান চায়। তিনি বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ভোটাধিকার ও গণরায়ের প্রতিও সম্মান দেখাতে হবে। জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে শুধু উন্নয়নের প্রচার জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না। জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি না খেলার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ও গণরায়কে উপেক্ষা করার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়। অতীতে ভোটাধিকার উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে পরিণতি হয়েছে, বর্তমান সরকারকে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি বলেন, একই দিনে একই ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তাদের মতামত দিয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সংবিধান সংশোধন করলেই হবে না; প্রয়োজন কাঠামোগত ও কার্যকর সংস্কার। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। গণরায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে জনগণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে রাজপথে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের মর্যাদাকে উপেক্ষা করে কোনো সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের ফিরিয়ে এনে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি। দেশের সার্বভৌমত্ব, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি আনিসুর রহমান কাসেমী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাগর ও যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশীদের সঞ্চালনায় এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-বিকেএমের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আইও/ |