
|
সংবিধান সংস্কারে পৃথক সংসদ অধিবেশন আহ্বানের দাবি খেলাফত মজলিসের
প্রকাশ:
০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৫৩ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে পৃথক অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি বলেছে, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্ণ হতে চললেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের দৃশ্যমান আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে সরকারি দলের নৈতিক দায়িত্ব হলো দ্রুত সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতারা বলেন, খুন, জখম, অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় সব ধরনের অপরাধী আগের তুলনায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে এবং প্রকাশ্যে হত্যা বা গুরুতর জখম করতেও তারা দ্বিধা করছে না। এমনকি আসামি গ্রেপ্তারে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বেড়েছে। নেতৃবৃন্দের মতে, অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধির পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শৈথিল্য ও দুর্বল তৎপরতা অন্যতম কারণ। তারা অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দৃঢ়, পেশাদার ও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি, তদারকি বৃদ্ধি, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব জোরদারে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরকে স্বাগত জানিয়ে খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে কেবল ভারসাম্য রক্ষা নয়, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তারা চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরকে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে চীনের আন্তরিক ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এছাড়া অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যা এবং ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এখন থেকেই কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। উল্লেখ্য, বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, বায়তুলমাল সম্পাদক আলহাজ আবু সালেহীন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, খন্দকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, হাজী নুর হোসেন, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজিজুল হক, আমীর আলী হাওলাদারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ার ইসলাম/জেডএম |