
|
দুই হিন্দু অনাথ ভাইকে মানুষ করে বিয়ে দিলেন মুসলিম দম্পতি
প্রকাশ:
২৭ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কর্ণাটকের অবসরপ্রাপ্ত কেএসআরটিসি চালক মেহবুব হাসান নায়কওয়াড়ি ও তাঁর স্ত্রী নূরজাহান। কোনো রক্তের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধর্মের দুই অনাথ হিন্দু শিশুকে প্রায় ২০ বছর ধরে পরম মমতায় লালন-পালন করে স্বাবলম্বী করার পর সম্প্রতি বড় ছেলের বিয়ে দিয়েছেন এই দম্পতি। ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই দশক আগে। মেহবুব হাসানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শিবানন্দ কডয়্যা পুজেরি ও তাঁর স্ত্রী অকালে মারা গেলে তাঁদের দুই শিশুসন্তান সোমশেখর ও বসন্ত পুরোপুরি অনাথ হয়ে পড়ে। সেই সময় সোমশেখরের বয়স ছিল মাত্র চার বছর এবং বসন্তের বয়স ছিল দুই বছর। স্বজনদের কেউ এগিয়ে না আসায় মেহবুব ও নূরজাহান দম্পতি দুই অনাথ শিশুকে নিজেদের ঘরে তুলে নেন। নিজেদের আগের চার ছেলে ও এক মেয়ের পাশাপাশি এই দুই শিশুকেও নিজ সন্তানের মর্যাদা দিয়ে বড় করতে শুরু করেন তারা। দীর্ঘ ২০ বছরে সাত সন্তানকেই সমান ভালোবাসায় বড় করেছেন মেহবুব ও নূরজাহান। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, পালক বাবা-মা এই দুই ভাইয়ের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। তারা নিজেদের হিন্দু ও লিঙ্গায়ত পরিচয় নিয়েই বড় হয়েছে। পরিবারের সহায়তায় সোমশেখর বিএসসি পাশ করেন এবং বসন্ত প্রি-ইউনিভার্সিটি শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনা শেষে দুজনেই বেলগাভির 'এয়ুক্স' নামের একটি মহাকাশযান যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থায় কর্মসংস্থান লাভ করেন। সম্প্রতি বড় ছেলে সোমশেখর বিয়ের বয়সে পৌঁছালে মেহবুব ও নূরজাহান আবার অভিভাবকের দায়িত্ব তুলে নেন। মহারাষ্ট্রের গড়হিংলজ তালুকের তনওয়াড় গ্রামে গিয়ে কনে সন্ধান করে বীরশৈব লিঙ্গায়ত পরিবারের পূনম নামের এক তরুণীর সঙ্গে সোমশেখরের বিয়ে ঠিক করেন তারা। বিয়েতে সনাতন ধর্মীয় রীতি মেনে বরপক্ষের যাবতীয় অভিভাবকত্ব পালন করেন মেহবুব ও নূরজাহান। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্প্রীতির এই বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। টিএইচএ/ |