ছয় মাসে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ৩১ লাখের বেশি মানুষের আগমন
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির ঐতিহাসিক শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৩১ লাখের বেশি মানুষ আগমন ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা হিসেবে মসজিদটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৬০৭ জন মসজিদ ও এর বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করেছেন। তাদের মধ্যে ১৮ লাখ ৪১ হাজার ৩০৫ জন ছিলেন মুসল্লি ও ইফতারে অংশগ্রহণকারী, ১২ লাখ ৪১ হাজার ৮০৮ জন বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থী এবং ৪৪ হাজার ৪৯৪ জন মসজিদ কমপ্লেক্সের স্পোর্টস ওয়াকওয়ে ব্যবহার করেছেন।

এ সময়ে শুক্রবারের নামাজে ৯৮ হাজার ৪৬৯ জন এবং নিয়মিত দৈনিক নামাজে ২ লাখ ২৯ হাজার ১৩৯ জন মুসল্লি অংশ নেন। রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময়ে মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন আরও ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৭ জন।

রমজানের ২৭তম রাতে মসজিদে সর্বোচ্চ ৫৩ হাজার ৯০২ জন মুসল্লির সমাগম হয়। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৬ জন তারাবির নামাজ এবং ৪৫ হাজার ৮৪৬ জন তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করেন।
রমজানে মসজিদ সেন্টারের ‘আওয়ার ফাস্টিং গেস্টস’ প্রকল্পের আওতায় রেকর্ড ২৬ লাখ ৫ হাজার ৮১০টি ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। জায়েদ হিউম্যানিটারিয়ান লিগ্যাসি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা ও আর্থ হোটেলের কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ৯ লাখ ৮০ হাজার ১০টি, আল আইনয়ের শেখ খলিফা গ্র্যান্ড মসজিদে ৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪০টি এবং ফুজাইরাহর শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৬০টি ইফতার বিতরণ করা হয়। বাকি ইফতার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী স্থানে বিতরণ করা হয়।

ঈদুল আজহার ছুটিতে আবুধাবির শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে ৯৬ হাজার ৫৬৫ জন অতিথি আসেন। তাদের মধ্যে ৫১ হাজার ৭৪০ জন ছিলেন মুসল্লি এবং ২৩ হাজার ৬৪১ জন ঈদের নামাজে অংশ নেন। এ সময়ে ৪৩ হাজার ৮১১ জন দর্শনার্থী এবং ১ হাজার ১৪ জন স্পোর্টস ওয়াকওয়ে ব্যবহার করেন।

মসজিদটির মোট দর্শনার্থীর ৭৮ শতাংশই ছিলেন বিদেশি। এর মধ্যে এশিয়ার দর্শনার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—৫২ শতাংশ। ইউরোপ থেকে ৩১ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা থেকে ১০ শতাংশ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ৩ শতাংশ করে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ শতাংশ দর্শনার্থী এসেছেন।

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এসেছেন ভারত থেকে—২১ শতাংশ। এরপর চীন ১০ শতাংশ, রাশিয়া ৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ৭ শতাংশ এবং জার্মানি ৪ শতাংশ। ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পোল্যান্ড ও পাকিস্তান থেকে ৩ শতাংশ করে দর্শনার্থী এসেছেন।

মসজিদের সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞরা এ সময়ে ১ হাজার ১৬টি গাইডেড ট্যুর পরিচালনা করেন। এসব ভ্রমণে মসজিদের স্থাপত্য, শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সামরিক-বেসামরিক প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সরকারি দলের ৪০৩টি সফরও পরিচালনা করেছে কেন্দ্রটি।

দর্শনার্থী কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ সেন্টার ১০টির বেশি সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ‘ম্যানুস্ক্রিপ্টস: আইডেন্টিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়। এতে প্রাচীন পাণ্ডুলিপির জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং মানব ঐতিহ্য সংরক্ষণে এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া কাজান ফোরাম ২০২৬-এ অংশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা, সহাবস্থান ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে কেন্দ্রটি।

রমজানে ‘জুসুর’ কর্মসূচির ষষ্ঠ মৌসুমে বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের জন্য মসজিদে বিশেষ রমজান অভিজ্ঞতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ‘দিয়া’ ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার নতুন মৌসুম এবং মুসলিম বিজ্ঞানী ও মনীষীদের অবদান তুলে ধরতে ‘কন্ট্রিবিউশনস অব মুসলিম স্কলার্স’ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

মসজিদের সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও সমৃদ্ধ করতে ‘লাইট অ্যান্ড পিস মিউজিয়াম’ এবং ‘দিয়া: এ ওয়ার্ল্ড অব লাইট’ নামে ইমার্সিভ অভিজ্ঞতাও চালু রয়েছে। ৩৬০ ডিগ্রি প্রজেকশন, আলো, শব্দ ও বিভিন্ন সংবেদনশীল প্রভাবের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মহাবিশ্ব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাংস্কৃতিক ও মানবিক ঐতিহ্যের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেওয়া হচ্ছে।

এভাবে ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে ভূমিকার পাশাপাশি শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক সংলাপ, শিক্ষা ও পর্যটনেরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। সূত্র: গালফ নিউজ

এমএন/