
|
দারুল উলুম দেওবন্দে বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্বাধীনতা দিবস পালিত
প্রকাশ:
১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫০ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ আলেমদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতা, দেশপ্রেম, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাস ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এর আলেমদের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়। শনিবার (১৫ আগস্ট) অনুষ্ঠানে দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা মুফতি আবুল কাসেম নোমানি, নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আবদুল খালেক মাদরাজি ও মাওলানা মুফতি রাশিদসহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও দারুল উলুম দেওবন্দের সদরুল মুদাররিসিন মাওলানা সাইয়েদ আরশাদ মাদানি। স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে মাওলানা আরশাদ মাদানি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেওবন্দের আলেমদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য তারা দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন এবং নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ ভারতের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, দারুল উলুম দেওবন্দ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেওবন্দের বহু আলেম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং স্বাধীনতার জন্য কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।
সম্প্রতি দারুল উলুম দেওবন্দের স্থাপনা নিয়ে কিছু মহলের বিতর্কিত দাবির প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন মাওলানা আরশাদ মাদানি। তিনি বলেন, যারা দারুল উলুমের ভেতরে শিবলিঙ্গ থাকার মতো দাবি করছেন, তাদের আগে প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস পড়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ভারতের স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ কারাবাস ও কঠিন নির্যাতন সহ্য করার ইতিহাস দারুল উলুমের আলেম ও শিক্ষার্থীদের রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস না জেনে এ ধরনের দাবি করা সমীচীন নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মাওলানা মাদানি বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে দেওবন্দের আলেমদের ভূমিকা ও আত্মত্যাগ ইতিহাসের অংশ। তাই কোনো ধরনের ভিত্তিহীন দাবি দিয়ে সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে ভারতের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী আলেমদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিভিন্ন ধর্ম, সম্প্রদায় ও শ্রেণির মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের এই আয়োজনে দেশপ্রেম, শান্তি, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্তে দারুল উলুম দেওবন্দের শীর্ষ আলেমদের একসঙ্গে উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নেতৃত্বের পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। আয়োজনে ভারতের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী আলেমদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের আত্মত্যাগ থেকে দেশপ্রেম, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আইও/ |