
|
হাটহাজারী মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা, উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ:
১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৫৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উলামায়ে কেরাম। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে সৃষ্টি হয় আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের প্রতি হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীও। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে হাটহাজারী মাদরাসার নতুন মসজিদ গেটে গাড়ি থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা শফিউল আলমসহ ঊর্ধ্বতন শিক্ষকরা। পরে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসার বায়তুল আতিক জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত মাকবারায়ে জামিয়ায় গিয়ে শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও কায়েদে মিল্লাত আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-এর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ টি এম শামসুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সফরসঙ্গী ঊর্ধ্বতন নেতা ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কবর জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসার শিক্ষাভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে অবস্থানরত হাজারো শিক্ষার্থীর দিকে হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়। তাঁর প্রতি শিক্ষার্থীরাও হাত নেড়ে ও অভিবাদন জানিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসার দারুল আমান ভবনের দ্বিতীয় তলায় মহাপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে মাদরাসার শীর্ষ আলেম ও উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদিস আল্লামা শেখ আহমদ, শায়খে সানী আল্লামা শোয়াইব জমিরী, শিক্ষাসচিব ও মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি কিফায়াতুল্লাহ, আল্লামা মুফতি জসিমুদ্দীন, আল্লামা কবীর আহমদ, আল্লামা আশরাফ আলী নিজামপুরীসহ মাদরাসার মুহাদ্দিস, মুফতি ও উলামায়ে কেরাম। হাটহাজারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন মাদরাসার আমন্ত্রিত মুহতামিমরাও এতে অংশ নেন। মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহমদ জানান, সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত আলেমদের সঙ্গে সালাম ও মুসাফাহা করেন। সময়স্বল্পতা ও পরবর্তী কর্মসূচির কারণে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারায় তিনি মাদরাসার মহাপরিচালকসহ উপস্থিত উলামায়ে কেরামের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আবারও দারুল উলূম হাটহাজারী সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী প্রধানমন্ত্রীর হাতে জামিয়ার পক্ষ থেকে একটি মানপত্র তুলে দেন। তাঁকে জায়নামায, তাসবিহ, টুপি ও আতরও হাদিয়া করা হয়। মানপত্রে দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও দেশের অন্যতম প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। কওমি মাদরাসা ও আলেম-উলামার অবদান জাতীয় জীবনে আরও ব্যাপক স্বীকৃতি ও মর্যাদা লাভ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, দ্বীন, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে আলেম সমাজ ও কওমি মাদরাসাগুলোর সঙ্গে সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি কওমি মাদরাসা ও আলেম-উলামাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার, বিদ্বেষ ও হয়রানিমূলক প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী মাদরাসার মাঠের মধ্য দিয়ে শাহীগেটের দিকে রওনা হন। এ সময় মাঠ ও বিভিন্ন ভবনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি। শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। বিদায় নেওয়ার সময়ও প্রধানমন্ত্রী পুনরায় দারুল উলূম হাটহাজারী সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে মাদরাসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা শাহীগেট পর্যন্ত গিয়ে তাঁকে বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ফারেগীন ও দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। জামিয়া কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও আলেম সমাজের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। আরএইচ/ |