প্রধানমন্ত্রীর হাটহাজারী মাদরাসায় আগমন ঘিরে আলেমদের প্রত্যাশা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় আগমনকে ঘিরে দেশের সর্বপ্রাচীন এবং সবচেয়ে বড় এই কওমি মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারপ্রধানের আগমনকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও দেশের কওমি শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন মাদরাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বক্তব্যে হাটহাজারী মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী এবং মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মুনির আহমদ এসব প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী বলেন, কওমি স্বকীয়তা বজায় রেখে ১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাটহাজারী মাদরাসা এক শতকেরও বেশি সময় ধরে ইলমে ওহীর চর্চার ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী মূল্যবোধ সংরক্ষণ, আত্মশুদ্ধি এবং সৎ ও নৈতিকতাসম্পন্ন নাগরিক গঠনে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, হাটহাজারী মাদরাসায় তার আগমন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা ও আলেমসমাজ ঐতিহাসিকভাবে সত্য, ইনসাফ, জাতীয় সংহতি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাদরাসার শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা পরিবেশ আধুনিকায়ন, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতা ও শুভদৃষ্টি কামনা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাটহাজারী মাদরাসার সার্বিক অগ্রযাত্রায় সরকারের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মুনির আহমদ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। তিনি এটিকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও দেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মুনির আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১২৫ বছরের পথপরিক্রমায় হাটহাজারী মাদরাসা কোরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, বিশুদ্ধ ঈমান-আকিদা, ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে অসংখ্য আলেম, মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব, গবেষক ও দ্বীনি নেতৃত্ব গড়ে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে সামনে রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে কওমি শিক্ষা ও আলেমসমাজের ঐতিহাসিক অবদানের জাতীয় মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা আরও সুদৃঢ় হবে। নৈতিকতা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব ও দেশ-সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ প্রজন্ম গঠনে কওমি শিক্ষার ভূমিকা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আলেম-উলামা ও কওমি মাদরাসাগুলোকে ঘিরে বিদ্যমান ভুল ধারণা, অপপ্রচার ও অযাচিত প্রতিবন্ধকতা দূর করে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার একটি সুস্থ, মর্যাদাপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে ওঠা প্রয়োজন।

মুনির আহমদের প্রত্যাশা, দ্বীন, দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ও আলেমসমাজের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে।

উল্লেখ্য, রোববার চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদরাসায় যাবেন। সেখানে তিনি মাদরাসা পরিদর্শনের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগারীর (রহ.) কবর জিয়ারত করবেন বলে জানা গেছে।

আরএইচ/