
|
‘দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ার সময় এখনই’
প্রকাশ:
১৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী || মুফতি আমিনী রহ. বলতেন, একদিন মাদরাসার ছাত্রদের মধ্য থেকেই দেশ পরিচালনার যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আমিও মনে করি, ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আলেমসমাজ ও মাদরাসার ছাত্রদের নেতৃত্ব বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। কারণ এর জন্য প্রয়োজন একদিকে নিষ্ঠা, অন্যদিকে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। যথাযথ সুযোগ ও প্রস্তুতি পেলে তারাই ভবিষ্যতে ইসলামি মূল্যবোধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। ৫ আগস্টের পর আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছিলাম, যখন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো রাজনৈতিক সাফল্য অর্জিত হতো না, কিন্তু আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বতন্ত্র, গ্রহণযোগ্য ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্বের ধারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারত। একই সঙ্গে মুফতি আমিনী (রহ.) বলতেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় মিস্টার ও মাওলানার সমন্বয় লাগবে।’ অর্থাৎ রাষ্ট্র একটি বহুমাত্রিক ব্যবস্থা; এখানে বিভিন্ন জ্ঞান ও দক্ষতার মানুষের প্রয়োজন রয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি প্রয়োজনে প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কৌশলগত জোট ও সমঝোতার পক্ষপাতী ছিলেন। এর বাইরে কেউ যদি জাতির কল্যাণে এবং শাসকগোষ্ঠীর সংশোধনের নিয়তে সম্পর্ক রাখেন, রাখতে পারেন। আবার কেউ যদি বিরোধী অবস্থানে থেকে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করেন, সেটিও গ্রহণযোগ্য। এক্ষেত্রেও মতের ভিন্নতা স্বাভাবিক; কিন্তু সংকট তখনই সৃষ্টি হয়, যখন ব্যক্তি বা দল এই ধারণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে, ‘আমিই হক, আমার দলই একমাত্র হক।’ বিশেষ করে অন্ধ সমর্থকদের লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের অসৌজন্য ও উগ্র আচরণকে নিয়ন্ত্রণ না করা বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। আল্লাহর ইচ্ছায় চারদলীয় জোট সরকারের সময় রাজনৈতিক সক্রিয়তার পাশাপাশি সরকারকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। এরপর এক-এগারোর সময় এবং তারও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারপন্থী, সরকারবিরোধী, আবার দিনের বেলায় সরকারবিরোধী অথচ রাতের বেলায় সরকারসমর্থক—এমন নানা শ্রেণির নেতৃত্বকে দেখেছি। আমার উদ্বেগ মূলত সেই মানুষদের নিয়ে, যারা প্রকাশ্যে এক অবস্থান গ্রহণ করেন কিন্তু আড়ালে ভিন্ন অবস্থান ধারণ করেন। তবে চুন খেয়ে মুখ পুড়েছে বলে দই দেখলে ভয় পাওয়া ঠিক নয়। যারা ফ্যাসিবাদের বাজারে বিক্রি হয়নি, আশা করা যায় তারা আগামী দিনগুলোতে বিক্রি হবে না, ইনশাআল্লাহ। সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের প্রয়োজন আত্মসমালোচনার সাহস, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে পথচলার মানসিকতা। পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে যথাযথভাবে গড়ে তোলার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। আমরা যদি ক্ষুদ্র বিভেদ ও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের শক্তিকে একত্রিত করতে পারি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নেতৃত্তের জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ একটি শক্তিশালী, ইনসাফভিত্তিক ও আদর্শনিষ্ঠ নেতৃত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। লেখক: মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট; মুহাদ্দিস, জামিয়া কোরআনিয়া লালবাগ জেডএম/ |