
|
সঠিক ধর্মীয় সচেতনতাই গড়ে তোলে আদর্শ নেতৃত্ব: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি
প্রকাশ:
০৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
আন্তর্জাতিক ডেস্ক বুধবার (৫ আগস্ট) কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত ‘নেতৃত্ব গঠনে ধর্মীয় সচেতনতার ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভবিষ্যৎ নেতা: কর্মবাজারের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ড. নজির আয়্যাদ বলেন, ইসলামে জ্ঞানার্জনই মানব গঠনের ভিত্তি। পবিত্র কুরআনের প্রথম নির্দেশ ‘পড়ো’ মানবসভ্যতার জ্ঞানভিত্তিক অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে। ওহি মানুষের চিন্তাশক্তিকে দমিয়ে দেয় না; বরং সত্য অনুধাবন ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা পরিচালিত করে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ শুধু সনদধারী তৈরি করা নয়; বরং এমন নেতৃত্ব গড়ে তোলা, যারা চিন্তাশীল, সৃজনশীল এবং দায়িত্বশীল হবে। জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিচ্ছিন্নতা কিংবা ক্ষমতা ও বিবেকের দূরত্ব থেকেই সমাজের বহু সংকটের জন্ম হয়। গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল জ্ঞানভাণ্ডার মানব উন্নয়নের বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এসব প্রযুক্তি তখনই কল্যাণকর হবে, যখন তা নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। অন্যথায় গুজব ছড়ানো, জনমত বিভ্রান্ত করা এবং মূল্যবোধ ধ্বংসের হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, প্রকৃত ধর্মীয় সচেতনতা শুধু ইবাদত বা ধর্মীয় পাঠ মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি এমন একটি জীবনদর্শন, যা মানুষের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা, দায়িত্ববোধ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য নির্ণয় এবং উত্তম চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। ড. নজির আয়্যাদ বলেন, কুরআন ও সুন্নাহ নেতৃত্বের বাস্তব মডেল উপস্থাপন করেছে। হজরত ইউসুফ (আ.)-এর আমানতদারি ও দূরদর্শিতা, হজরত মুসা (আ.)-এর দলগত নেতৃত্ব, হজরত সুলায়মান (আ.)-এর দক্ষ প্রশাসন এবং যুলকারনাইনের উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র পরিচালনা—এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, সফল নেতৃত্ব দক্ষতা, পরিকল্পনা, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান, পরামর্শভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির যে নীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা আজও কার্যকর ও অনুসরণযোগ্য। বক্তব্যের শেষাংশে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে গ্র্যান্ড মুফতি আহ্বান জানান, তারা যেন আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে জীবনের সব সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন, জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তোলেন, সময়ের মূল্য উপলব্ধি করেন এবং দলগত কাজের মানসিকতা অর্জন করেন। তিনি বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে এমন সচেতন তরুণদের হাত ধরে, যারা জ্ঞান, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে। সেমিনারে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও শিক্ষার্থী বিষয়ক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আহমদ রজব মোহাম্মদ আলী গ্র্যান্ড মুফতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে সঠিক চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানের শেষে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ড. নজির মোহাম্মদ আয়্যাদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। তাঁর জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ কার্যক্রম, মধ্যপন্থা প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সূত্র: গ্র্যান্ড মুফতির ফেসবুক পেইজ এমএন/ |