গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবে না: গাজী আতাউর রহমান
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৪১ রাত
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের তদন্তভার পুলিশের ওপর অর্পণের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, গুম একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। তাই এ ধরনের অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের পরিবর্তে স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান—জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দেওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নিয়মিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও তাদের বিশেষায়িত ইউনিটের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক বা আধাসামরিক বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তাই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের হাতেই তদন্তভার দিলে গুমের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত হবে না। এতে গুমের ঘটনা আগের মতোই বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে আটকে থাকবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভার সর্বশেষ বৈঠকে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবিত আইনে সেই দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গাজী আতাউর রহমানের দাবি, প্রস্তাবিত আইনে ইতিবাচক কিছু ধারা থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নির্ভর করবে গুমের ঘটনাকে যথাযথভাবে ‘গুম’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর। তদন্ত যদি পুলিশের হাতে থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হবে না।

আইনের খসড়া নিয়ে মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র একদিন সময় দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষ্য, এমন গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল আইনের ক্ষেত্রে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা করা উচিত ছিল। তড়িঘড়ি করে আইন অনুমোদনের উদ্যোগ ভালো বার্তা দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় তিনি গুমের তদন্তভার পুনরায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে অর্পণের দাবি জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ও হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম ও কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক শেখ আবু তাহেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

আইও/