আমাদের নিয়ে যারা তামাশা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিক হলে লাল বক্সের ভেতর ফাজিলের পাশে ফজিলত বা তাকমিল পর্যায়ের বেফাকসহ ৬ বোর্ড ও হাইআর সনদের উল্লেখ করতে কোনো বাধাই ছিল না। সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, কওমি মাদরাসা কারিয়ানা সনদ দেয় না। প্রাইমারি স্কুলে কোরআন পড়ানোর লোক পাওয়া যায় না। হিফজুল কোরআন, ইলমুল কিরাআত ও নূরানী শিক্ষক প্রশিক্ষণের পর মন্ত্রীর বোধগম্য হওয়ার জন্য বেফাকসহ ৬ বোর্ড কারিয়ানা পরীক্ষারও ব্যবস্থা করে সনদ দিয়েছে। সরকার আলিয়া মাদরাসার ছোট্ট দুইটি পদে হাইআর তাকমিল পাস ব্যক্তিদের নেওয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। মন্ত্রী ও তাঁর দফতর দাওরায়ে হাদিস পাস ব্যক্তিদের সরকারি  ইমাম, খতিব, সশস্ত্র বাহিনীর ধর্মীয় প্রশিক্ষক, আলিয়া মাদরাসার উচ্চ পর্যায়ের শিক্ষক,  স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ এর শিক্ষক হিসাবে কাজের সুযোগ দেন না।

ইন্টেরিমের আমলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সার্কুলারে মসজিদের সুইপার পদে তাকমিল পাস লোকদের নাম জুড়ে দিয়েছিল। এসব খামখেয়ালি ও অহেতুক বিরক্ত করার কী কারণ থাকতে পারে? আগে একবার দারুল আরকাম মাদরাসায় কিছু কওমি আলেম নেওয়া হয়েছিল, সে প্রকল্পেও টাকা বরাদ্দ  দেওয়া হয় না। নিয়োগ রাজস্ব ভুক্ত করা হয় না।  আরবি ভাষা ও ইসলামিক স্টাডিজের মাস্টার্সের সমমান দিয়ে দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার পর এ দিয়ে সমমানের কাজে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে নিম্নতম গ্রেডের  সহকারী মৌলবী ও কারী পদে নেওয়া, সুইপার পদে আহ্বান করা বা অবমাননাকর কিছুর প্রস্তাব দেওয়ার মতো তামাশা কেন চলছে? নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী পদে সার্কুলার জারি করে আবার রিটের মাধ্যমে এটি আটকে রাখা কেন?

প্রকাশিত সার্কুলারে  সশস্ত্রবাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক পদে দাওরায়ে হাদিস নেই কেন? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের খবর কী? নৃত্য গীত নাটক ও শিল্পকলার ৬০ হাজার টিচার নিয়োগের কাজ তো অনেক অগ্রসর। ৮/১০ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারের সময়ে মন্ত্রণালয়ের সাথে মিটিং করে কোনো উপকার হচ্ছে না। সব সময়ই তারা শুধু তামাশা করছে। স্বয়ং  প্রধানমন্ত্রীকে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকসহ ৬ বোর্ড এবং সম্মিলিত কর্তৃপক্ষ আল হাইআতুল উলিয়ার সাথে বসে আন্তরিকতার সঙ্গে এসব বিষয় সমাধান করতে হবে। নিজেরা এগিয়ে না এসে কওমি অঙ্গনের মুরব্বিদের ওপর অসহযোগিতার দায় চাপানোর চেষ্টা করে মন্ত্রী এমপি ও আমলারা বেশি দিন সুবিধা করতে পারবে না। ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলে মিডিয়ার মাধ্যমে সব চক্রান্ত জনগণের সামনে  তুলে ধরা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প থাকবে না।

লেখক: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও সদস্য স্থায়ী কমিটি, কওমি শিক্ষার সর্বোচ্চ অথরিটি আল হাইআতুল উলিয়া

আরএইচ/