কওমীপিডিয়ার তালিকায় দেশের শীর্ষ ৫ প্রভাবশালী আলেম
প্রকাশ: ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
নিউজ ডেস্ক

‎বিশেষ প্রতিবেদন‎

দেশের কওমি মাদরাসাভিত্তিক তথ্যভাণ্ডার কওমীপিডিয়া দেশের কওমি অঙ্গনের শীর্ষ ৫ প্রভাবশালী আলেমের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

‎প্রকাশিত তালিকায় ধর্মীয় নেতৃত্ব, শিক্ষা, সামাজিক প্রভাব, সাংগঠনিক অবস্থান এবং জনসম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক বিবেচনায় পাঁচজন বিশিষ্ট আলেমকে স্থান দেওয়া হয়েছে।‎

‎তালিকার শীর্ষে রয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। ‎কওমীপিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দেশের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী ইসলামি ব্যক্তিত্ব। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের আমীর হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১৩ সালের পরে তিনি হেফাজতে ইসলামের মধ্যম সারির নেতা হওয়ার পরেও তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি হেফাজতের মুখ্য ব্যক্তি হয়ে উঠেছিলেন। যে কোনো সভা সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি ও তার বক্তব্য রাষ্ট্রের কাছে অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যে আলাদা নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

‎তার আহ্বানে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম ঘটে বলে কওমীপিডিয়া উল্লেখ করেছে। ‎

‎এছাড়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক মহলে সঙ্গে তার মতবিনিময় এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে তাকে ঘিরে আলোচনা ও দেশী বিদেশী বিভিন্ন এজেন্সি তাঁকে ঘিরে অনেক কর্মসূচি নির্ধারণ করে। এসব বিষয় তার প্রভাবের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।‎

‎দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তিনি দেশের প্রায় ৩৫ হাজার কওমি মাদরাসার সমন্বিত শিক্ষা বোর্ড আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে তিনি রাজধানীর একটি ঐতিহ্যবাহী বৃহত্তম কওমি মাদরাসার মুহতামিম। কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার নেতৃত্বকে এই অবস্থানের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।‎‎

‎তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি সামাজিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমীর। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ কওমী মাদ্রাসার মহা পরিচালক হিশেবে  দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মীয় শিক্ষা ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই তার প্রভাবের কারণে তাকে তালিকায় তৃতীয় স্থানে রাখা হয়েছে।‎

‎চতুর্থ স্থানে আছেন মুফতি ফয়জুল করীম (চরমোনাই)। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নায়েবে আমির। কওমীপিডিয়ার মতে, তার বক্তব্য, জনসম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক-ধর্মীয় অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা ব্যাপক। সারা দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা উপজেলায় তাঁর অনুসারী রয়েছেন, যারা তাঁর নির্দেশনায় জীবন পর্যন্ত বিলীন করে দিতে প্রস্তুত থাকে। তাঁর দল রাজধানীতে ১২ ঘণ্টার নোটিশে হাজার হাজার লোক জড়ো করার ক্ষমতা রাখে। এসব কারণে তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামি ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।‎

‎পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মাওলানা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই মুহূর্তে যার কাছ থেকে রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। ‎

‎দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি গবেষণা, লেখালেখি ও দাওয়াহ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এই আলেমের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন এবং ধর্মীয় অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতাকে তার প্রভাবের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে কওমীপিডিয়া।‎

‎কওমীপিডিয়া জানিয়েছে, তালিকাটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেমদের ধর্মীয় নেতৃত্ব, সামাজিক প্রভাব পরিচিতি, শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান, সাংগঠনিক অবস্থান, জনসম্পৃক্ততা এবং জাতীয় পরিসরে সার্বিকপ্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।‎

‎এছাড়া কওমীপিডিয়া দেশের শীর্ষ পাঁচ আলোচিত ইসলামি আলোচকের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

‎প্ল্যাটফর্মটির দাবি, সমসাময়িক সময়ে জনআলোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি, বক্তব্যের প্রভাব এবং সামগ্রিক পরিচিতির ভিত্তিতে এ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।‎

‎তালিকার শীর্ষে রয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি দেশের অন্যতম পরিচিত ইসলামি আলোচক। ধর্মীয় আলোচনা ছাড়াও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁর বক্তব্য ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়মিত জনআলোচনায় স্থান পায়।‎

‎দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তাদের একজন হিসেবে পরিচিত। তাঁর ওয়াজ, ধর্মীয় আলোচনা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করে।‎

‎তৃতীয় স্থানে আছেন মাওলানা এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো, সমসাময়িক ইস্যুতে মন্তব্য এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তিনি আলোচিত। ধর্মীয় ও সামাজিক নানা বিষয়ে তাঁর বক্তব্য প্রায়ই জনপরিসরে আলোচনার জন্ম দেয়।‎

‎চতুর্থ স্থানে রয়েছেন মুফতি রেজাউল করীম আবরার। বিভিন্ন ধর্মীয় মতপার্থক্য ও সমসাময়িক বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরার কারণে তিনি আলোচনায় থাকেন। কওমীপিডিয়ার মূল্যায়নে, তুলনামূলক কম বয়সেই তিনি উল্লেখযোগ্য পরিচিতি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ওলামা সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।‎

‎তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন মাওলানা আলী হাসান উসামা। সম্প্রতি খেলাফত মজলিস ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন এবং পরবর্তী বক্তব্যগুলো তাঁকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ইসলামী বক্তায় পরিণত করেছে বলে কওমীপিডিয়া মনে করছে।‎

‎উল্লেখ্য, এটি কওমীপিডিয়ার নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি তালিকা। এ বিষয়ে ভিন্নমত বা বিকল্প মূল্যায়নও থাকতে পারে।

আইও/