মাওলানা আতাউর রহমান খানের চলে যাওয়ার ১৮ বছর
প্রকাশ: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:৪৮ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৩১ জুলাই দেশের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষাবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য এবং কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের সাবেক মহাসচিব মাওলানা আতাউর রহমান খান রহ.-এর ইন্তেকালের ১৮ বছর পূর্ণ হলো। ২০০৮ সালের এই দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার হাতকাবিলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আহমদ আলী খান (রহ.) ছিলেন হযরত মাওলানা আতহার আলী (রহ.)-এর অন্যতম খলিফা এবং কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইমদাদিয়ার আজীবন প্রিন্সিপাল। পারিবারিক পরিবেশেই তিনি দ্বীনি শিক্ষা ও আদর্শে গড়ে ওঠেন।

শৈশব থেকেই জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জে অধ্যয়ন করে সেখান থেকেই দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন এবং একসময় ভাইস প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি জামিয়া ফারুকিয়া কিশোরগঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল, ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসা ও দারুল উলূম মিরপুর-৬ মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিকাশে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক)-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জাতীয় শরিয়াহ কাউন্সিলের সদস্য, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর্সের সদস্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। প্রথম জীবনে নেজামে ইসলাম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থায়ও তিনি ইসলামি মূল্যবোধ, শিক্ষা ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। খতমে নবুওয়াত আন্দোলনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রশ্নে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান সমসাময়িক আলেম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

মাওলানা আতাউর রহমান খান (রহ.) ছিলেন হযরত মাওলানা আতহার আলী (রহ.)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী। মতপার্থক্য থাকলেও তিনি কখনো শায়খ সম্পর্কে অসম্মানজনক মন্তব্য করেননি। আলেমদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাবোধ, বিনয়, শালীনতা ও জবান সংযম সমসাময়িকদের কাছে ছিল অনুকরণীয়।

তিনি একজন গবেষক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইসলামী বিশ্বকোষ সম্পাদনার কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— তাফসিরে সূরা মুলক, পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র ও ইসলাম, ইসলামের অর্থবণ্টন ব্যবস্থা, মুসলিম শিশু শিক্ষা, মাওলানা আতহার আলী (রহ.)-এর স্মৃতি এবং নির্বাচিত প্রবন্ধ।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন আদর্শ অভিভাবক। নিজের সন্তানদের প্রথমে কওমি মাদরাসায় দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে লেখক ও সাংবাদিক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিউর রহমান খান, গবেষক ড. মাওলানা খলীলুর রহমান, মাওলানা রেজওয়ানুর রহমান খান এবং ইসলামী সংগীতশিল্পী মুহিব খান নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপরিচিত।

আইও/