‘ভারতের মুসলিমদের কোরবানির স্বাধীনতায় বাধা ধর্মীয় অধিকারের লঙ্ঘন’
প্রকাশ: ০৬ জুন, ২০২৬, ১১:২১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক বলেছেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের কোরবানি ও গরু জবাইয়ের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং মুসলমানদের মৌলিক ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

শুক্রবার (৫ জুন) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রশ্নে দ্বৈত নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়। প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীকে তার নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যেমন নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে, তেমনি মুসলমানদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুশীলনে বাধা দেওয়া তাদের অধিকারের লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার নানা ক্ষেত্রে সংকুচিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে কোরবানির পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে যে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।

খতিব আরও বলেন, মানবাধিকারের সঠিক ধারণা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নির্ধারণ করতে হবে। পশ্চিমা চিন্তাধারার অনুসরণে অধিকারের সংজ্ঞা নির্ধারণ করলে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না। ইসলাম মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সব অধিকারের ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো নিজ নিজ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তথ্য বিকৃতি ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয় বলে যে প্রচারণা চালানো হয়, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ইসলামি মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক আদর্শের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা পাওয়া যায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সিরাত ও সুন্নাহ থেকে। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, যে সংস্কৃতিতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, সেটিকে সুস্থ সংস্কৃতি বলা যায় না। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ও নানা অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ দ্বীনি শিক্ষার অভাব। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি ও শরবত পান করানোর আহ্বান জানিয়ে খতিব বলেন, এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং মানবসেবার একটি উত্তম মাধ্যম।

তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, একজন মুমিনের জীবন দ্বিমুখী হতে পারে না। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি শয়তানের অনুসরণ করা কখনো সম্ভব নয়। তাই শরিয়তের জ্ঞান অর্জন, সত্য কথা বলা এবং ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জেডএম/