
|
প্রথম ধাপে অনুমোদন পেল ৩৫৭ হজ এজেন্সি
প্রকাশ:
২০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১৫ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক আগামী বছরের (২০২৭) পবিত্র হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রথম পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে ৩৫৭টি হজ এজেন্সিকে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রোববার (১৯ জুলাই) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যোগ্য হজ এজেন্সির প্রথম তালিকা প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে ২০২৭ সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত শর্ত অনুযায়ী, অনুমোদিত কোনো এজেন্সি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন (প্রাক-নিবন্ধন নয়) সম্পন্ন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া হজযাত্রী নিবন্ধনের আগে যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত এজেন্সিপ্রতি ন্যূনতম হজযাত্রীর কোটা এককভাবে বা যৌথভাবে পূরণ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বা লিড এজেন্সি হজযাত্রী পাঠানোর অনুমতি পাবে। মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিটি এজেন্সিকে ই-হজ সিস্টেমে সরকার ঘোষিত প্যাকেজ অনুযায়ী হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এই প্যাকেজই হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র হিসেবে গণ্য হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবার ধরন, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব এবং প্যাকেজের মূল্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি এজেন্সিকে কমপক্ষে ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে। এই সংখ্যক হজযাত্রীর জন্য একজন হজ গাইড নিয়োগ বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে লিড এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী স্থানান্তরের (ট্রান্সফার) ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের হজ পালনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত গাইডকে আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং হজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ হতে হবে। ই-হজ সিস্টেমে গাইড নিবন্ধনের সময় তার পাসপোর্ট ও পূর্ববর্তী হজ পরিচালনার তথ্য যুক্ত করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে জানিয়েছে, অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়া যাবে না। কোনো এজেন্সি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে যেসব এজেন্সি এখনো যোগ্য তালিকায় স্থান পায়নি, তারা হালনাগাদ তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে পুনরায় আবেদন করতে পারবে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী পর্যায়ে প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যোগ্য তালিকা প্রকাশের পর কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। প্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সব এজেন্সিকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত বৈধ লাইসেন্স বজায় রাখতে হবে। যেসব এজেন্সির লাইসেন্স আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ হবে, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও হালনাগাদ আয়কর সনদ জমা দিয়ে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, যোগ্য তালিকাভুক্ত এজেন্সি ছাড়া অন্য কোনো এজেন্সির প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চালু থাকবে না। পরবর্তীতে যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। আইও/ |