
|
মাদক প্রতিরোধে চাহিদা ও যোগান—উভয়ই নির্মূল করতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই
প্রকাশ:
১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৩ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
নিজস্ব প্রতিবেদক মাদক প্রতিরোধে শুধু জনসচেতনতা যথেষ্ট নয়, মাদকের চাহিদা ও সরবরাহ—উভয় দিক থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। তিনি বলেন, মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে সরকারপ্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভা’-তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় মাদকই বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ ছিল। এজন্য জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অতীতের সরকারগুলো সে পথে না গিয়ে মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশের মূল্যবান জনসম্পদের একটি অংশ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, মাদক প্রতিরোধে আমরা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকে। তাই সরবরাহ লাইন নির্মূলে সরকারপ্রধানকে দৃঢ় ও আপসহীন ভূমিকা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে কোনো প্রভাবশালী মহলকে ছাড় দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিয়ে মাদকের উৎস ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পীর সাহেব চরমোনাই মাদকের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে চরমোনাই ইউনিয়নসহ সারাদেশকে মাদকমুক্ত করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই), দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মুহাম্মাদ বেলাল হুসাইন এবং বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম। আইও/ |