বন্যা দুর্গতদের পাশে হেফাজতে ইসলাম, ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণ
প্রকাশ: ১৭ জুলাই, ২০২৬, ০৫:৪৬ বিকাল
নিউজ ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বাঁশখালীর অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের উদ্যোগে শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি উপস্থিত থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের হাতে সহায়তা তুলে দেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস আল্লামা মুফতি জসিম উদ্দিন, জিরি মাদ্রাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলাম চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফেজ খোবাইব বিন তৈয়ব, জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম মাওলানা মুফতি ইকরাম হোসাইন অদুদীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং আল্লামা শাহ মোহাম্মদ তৈয়ব ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় বাঁশখালীর বাহারছড়া, সরল ও ভাদালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এবং কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিলাছুরা, নন্দীপাড়া ও মেহেরনামা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণে অংশ নেওয়া হেফাজতের স্বেচ্ছাসেবকরা দিনব্যাপী বিভিন্ন পানিবন্দী এলাকায় গিয়ে ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ সহায়তা পৌঁছে দেন।

ত্রাণ বিতরণকালে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব। হেফাজতে ইসলাম সবসময় মজলুম ও অসহায় মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণেই আমাদের দায়িত্ব শেষ নয়। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও আমরা কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সক্ষম মানুষদেরও দুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

ত্রাণ ও নগদ সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর ছনুয়া, শেখেরখীল, শীলকূপ, গণ্ডামারা ও আশপাশের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আইও/