ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ: ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৫ রাত
নিউজ ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী জানান, তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলেননি। এরপরও কেউ আহত হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁর দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানান।

আজ সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে এসেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছে। গতকালের পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার সময় বৃষ্টির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ভিজেছে এবং সঠিকভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখেছিল। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে এবং সেসব পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্রে নেওয়া হবে। ওই পরীক্ষাগুলো আয়োজনের সময়ই পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষাও পুনরায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের এক বা দুই দিন পরীক্ষা পেছানোর দাবি কেন গ্রহণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল, সেটিও জানতে চান তিনি।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশের ৬৪ জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তখন জানিয়েছিলেন, আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হলেও পরীক্ষার্থীরা যাতে পূর্ণ সময় পান, সে জন্য পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।

আইও/