শাপলা শহীদদের রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দাবি
প্রকাশ: ০৯ মে, ২০২৬, ০৮:২৬ সকাল
নিউজ ডেস্ক

‘আমরা টাকা চাই না, অর্থ চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্র স্বীকার করুক— শাপলার শহীদরা বাংলাদেশের ইসলামি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন।’

শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে রাজধানীতে ‘শাপলার শহীদগাথা’ শীর্ষক স্মরণ ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠানে এভাবেই আবেগঘন দাবি জানান শাপলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক।

তার কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের বেদনা, স্মৃতিতে ছিল রক্তাক্ত এক রাতের ইতিহাস। তিনি বলেন, শাপলার শহীদরা কোনো একক দলের কর্মী ছিলেন না; তারা ছিলেন ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ, কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী জনগণ।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, শাপলার আন্দোলন কেবল কোনো সংগঠনের কর্মসূচি ছিল না। সেখানে বিএনপির কর্মী ছিলেন, জামায়াতের কর্মী ছিলেন, জাতীয় পার্টির কর্মী ছিলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি সর্বজনীন আন্দোলন।

তিনি দাবি করেন, যারা সেদিন নিহত হয়েছেন, তারা দেশের ইসলামি চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাই তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো আর্থিক সুবিধা চাই না। আমরা চাই, রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করুক— শাপলার শহীদরা জাতির জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের সম্মান জানানো হোক, ইতিহাসে তাদের স্থান দেওয়া হোক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকের চোখে তখন আবেগের ছাপ দেখা যায়। বক্তারা বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা নিয়ে এখনও বিতর্ক ও আলোচনা চলমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, শাপলার ঘটনার সময় বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি দুই দিনের হরতালের ডাক দিয়েছিলেন, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দল দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শাপলার শহিদদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেবে।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শাপলার শহিদদের স্মরণ করেছেন। সংসদে যখন আমরা তাদের স্মরণ করেছি, তখন তাদের বিষয়ে পরবর্তী দায়িত্বও আমরা গ্রহণ করব।

জেডএম/