
|
বেফাক নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি
প্রকাশ:
২২ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| ড. ওয়ালীয়ুর রহমান খান || সম্মানিত বেফাক নেতৃবৃন্দ, আসসালামু আলাইকুম। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সাথে যথা শীঘ্র যোগাযোগ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯০০০ ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে কওমি মাদরাসা ফারেগদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নীতি ও প্রবিধান সংশোধনে সচেষ্ট হোন। সময় সুযোগ মত কিছু ভালো কাজ না করা হলে পরে আজীবন আক্ষেপ করতে হয়। ১৮৭৯ বা ৮০ সনের শাসনামলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বুঝিয়ে মাওলানা এম এ মান্নান (রহ) আলিয়া মাদরাসার সকল মান গ্রহণ করেন। তখন তিনি কওমি ধারায় দাওরাকে দশম শ্রেণির মান দিতে এবং নিচের স্তরসমূহের মান গ্রহণ করার জন্য কওমি নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করতেন। কিন্তু কোনো কারণে কওমীর মুরব্বিগণ সেটি জানতে পারেননি বা বেশি আগ্রহ করে সে প্রক্রিয়ায় যোগ দেননি। আমরা অনেকেই মনে করি; তখন কওমি নেতৃবৃন্দ শহীদ জিয়ার সাথে আলোচনা করে ফজিলতকে দশম এবং দাওরাকে দ্বাদশের মান নিয়ে নিলে বিগত ৪০/৪৫ বছরে কয়েক লাখ কওমি আলেম সমাজ; রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়োজিত থেকে ইসলাম দেশ ও জাতির বিশাল সেবা করতে পারতেন। হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হতো। বিপুলসংখ্যক পরহেজগার সুশিক্ষিত আলেম মানুষের শাসন ও সেবায় বাংলাদেশ এত দিনে একটি শান্তি ও সমৃদ্ধির মুসলিম দেশ হিসাবে বিশ্বে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত থাকত। যাহোক মহান আল্লাহর ফায়সালা কী তা আমরা জানি না। তিনি কোথায় আমাদের কল্যাণ রেখেছেন তিনি ভালো জানেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ ও ২৫ এর দু একটি সেমিনারে আমি ইজতিহাদ ফিল মাসাইল যেভাবে জায়েজ সেভাবেই কওমি সিলেবাসকে দেওবন্দের মূল চেতনা ঠিক রেখে যুগোপযোগী সংস্কার করা এবং নিচের সনদের মান গ্রহণ করার গুরুত্বের ওপর বক্তব্য রাখি। এর আগে ঢাবির উর্দুর প্রফেসর ড গোলাম রাব্বানী বেফাকের মানশা অনুযায়ী থাকার জন্য দাওরাকে দ্বাদশের মান দিয়ে মানের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। পরে সেমিনার থেকে তখন বেফাক ও সরকারের নিকট এ মর্মে কিছু সুপারিশ প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান সেই সচিব ও অতিরিক্ত সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নেই তবে নথিপত্র আছে। খোঁজ নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। এভাবে মান নিতে আত্ম মর্যাদায় বাধলেও এটি সঠিক হবে বলে মনে করি। কারণ এ রকম হলে দাওরা পাসের আগেই কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ার আশংকা থাকবে না। মাদরাসা ত্যাগের যে প্রবণতা আলিয়া মাদরাসাসমূহকে বিলীন করে দিচ্ছে সে বিপদটি থেকে কওমী ধারা মুক্ত থাকতে পারবে।। এটা সব কালেই বেফাকের মুরব্বিদের আশংকা এবং তাকমিলের নিচের সনদসদূহের সরকারি মান না নেওয়ার কারণ। বিগত ৩০ বছর এবং ইন্টেরিমের সময় বারবার আহ্বান পাওয়ার পরও এই ঝরে যাওয়ার ভয় এবং কওমি আদর্শের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার কারণে কওমির মুরব্বিগণ মধ্যবর্তী সনদগুলোর মান গ্রহণ করেননি। মহাসচিব মহোদয় আমাকে প্রশ্ন করেছেন; মানের জন্য পাকিস্তানের কথা বলা হয়। কিন্তু পাকিস্তানের কোন উচ্চ শিক্ষিত ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি কি এমন আছেন যিনি তাকমিল পর্যন্ত না পড়ে অন্য লাইনে গিয়েছেন?আমি বলেছি; এমন তো শুনিনি। বর্তমান বিএনপি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বেফাক ও হাইআর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার সাপেক্ষে মান দিতে পারবে। আর ভালো ও চরিত্রবান আলেম তৈরির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কওমী ধারার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঠিক রাখার স্বার্থে তাকমীলকে দ্বাদশ; ফযিলতকে দশম; হিদায়া জামাতকে ৮ম ও মীযান জামাতকে ৫মের কার্যকরি মান দিয়ে পথ চলা শুরু করা জরুরি এবং বাস্তবসম্মত বলে আমি মনে করি। ২০০৬ সনে বিএনপি কর্তৃক এবং ২০১৮ সনে লিগ কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি স্বীকৃতি ও তাকমীলকে এম এর সমমান বাস্তবে কারো কোনো উপকারে আসছে না। নিচের তিনটি সনদের মান না থাকায় উচ্চ শিক্ষিত হওয়া বা বিসিএসসহ সরকারি চাকুরির পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের বা আবেদন করারই অধিকার তৈরি হয়নি। তাই এই অধিকার কায়েম এবং দেওবন্দ তথা কওমী শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হাক্কানী আলেম তৈরী নিশ্চিত করার স্বার্থে বাস্তবতা মেনে সনদসমূহের মান নির্ধারণ করা জরুরি। আপাত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের এই চাকরিতে প্রবেশ করার জন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সংগে আশু মতবিনিময় করা জরুরি। এ বিষয়ে কচুয়া চাদপুরের আলেমগণও ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিশেষায়িত কিছু প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য যেভাবে বয়সসীমা শিথিল করা হয়েছে সেভাবে জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ এই ধর্মীয় শিক্ষক পদে কুরআন হাদীস ফিকহ আকীদাহ আখলাক ও আরবী ভাষায় পারদর্শী চরিত্রবান কওমি আলেমদের নিয়োগ দান করা হলে তা বিএনপি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে আরও উজ্জ্বল ও মহান করবে। তাই নীতিমালা ও প্রবিধান সংশোধন বা সংস্কার করে আলিয়ার সম্মানিত আলেমগণের পাশাপাশি সম্মানিত কওমি আলেমগণকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। লেখক: মুহাদ্দিস, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এমএম/ |