
|
নাগরিক সমাজে ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ে আত্মঘাতী উদাসীনতা
প্রকাশ:
১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৩:১৭ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
|| মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী || বাংলাদেশের মুসলমানরা নিজেদের রাষ্ট্র, সমাজ ও সংস্কৃতিতে ইসলামের সামান্য ঝলক দেখলেও আনন্দিত হন। জীবনের যে কোনো অংশে ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সামান্য ছাপ দেখলেও তাদের মন খুশিতে ভরে উঠে। ধর্ম বিদ্বেষী ও মন থেকেই ধর্মহীন লিটারারি সেক্যুলার লোকজন এসব দেখলে খুব নারাজ হন। চেষ্টা করেন যেন ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে অথবা অন্য ধর্মের নাগরিকদের অনুভূতির ধোয়া তুলে এসব নিষিদ্ধ করতে দেন। যদিও পৃথিবীর সব সমাজে জনগণের ধর্ম ও সংস্কৃতির ছাপ থাকা স্বীকৃত। খৃষ্টান সমাজ যখন আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক হওয়ার দাবী করে তখনও তাদের কাছে পোপ ও ভ্যাটিকানের গুরুত্ব ও পবিত্রতা সর্বোচ্চ। ধর্মের অপপ্রয়োগ জনিত কারণে ঐতিহাসিক বিতৃষ্ণা ও বীতশ্রদ্ধার ফলে তারা রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে ফেললেও রাষ্ট্রীয় কাজে ধর্মকে তারা গুরুত্ব দেয়। যুদ্ধ চলাকালে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ধর্ম যাজকদের এনে প্রার্থনা করান। নিজেও এতে শরীক হন। হাউজ অব কমন্সে সংসদ নেতার মতই আরেকটি চেয়ার ধর্ম গুরুর নামে নির্ধারিত থাকে। তাদের শপথগুলো হয় বাইবেল স্পর্শ করে। ডলারের গায়ে লেখা থাকে ‘অন গড উই ট্রাষ্ট’। হিন্দুদের মধ্যেও ধর্মীয় প্রতিক, নিদর্শন, চিহ্ন, বানী ও স্লোগান দেখা যায়। অনেকে জামা কাপড়ে, চেহারায়, কপালে, হাতে, কব্জিতে ধর্মীয় কোনো চিহ্ন ব্যবহার করেন। এতে তাদের আধুনিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় না। শিখদের তো তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতির এসব সিম্বল হাজার লোকের মধ্যেও আলাদা করে রাখে। কিন্তু মুসলমানরা এসব ক্ষেত্রে হীনমন্যতায় ভোগেন। খুব চেষ্টা করেন যাতে তাকে কোনো ভাবেই মুসলমান হিসাবে আলাদা করা না যায়। ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য বজায় না রেখে যত ধর্মহীন হতে পারেন, ততই যেন তার গৌরব বাড়ে। স্বাধীনতার পর যে কোনো অতি উৎসাহী শক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রাব্বি যিদনী ইলমা’ আয়াতটি তুলে দেয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইকরা বিসমি রাব্বি’ তুলে দেওয়া হয়। তেমনিভাবে ঢাকা বোর্ড থেকে কোরআনের আয়াত মুছে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় নামের অংশ হিসাবে ইসলাম শব্দটিও সহ্য করা হয়নি। যেমন কাজী নজরুল ইসলাম পূর্ণ নাম হলেও কলেজের নাম করা হয় কবি নজরুল কলেজ, নজরুল একাডেমি, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্দেশ্য, যাতে ইসলাম শব্দটি না থাকে। অথচ কোনো সিনিয়র নাগরিকের নাম ইসলাম বাদ দিয়ে শুধু কামরুল, শামসুল, নজরুল বলে উচ্চারণ করা বেয়াদবী। এই সূক্ষ্ম কাজগুলো যে একদম বাজে লোকেরা করে তা মনে করা ঠিক না। অনেক দায়িত্বশীল ও উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানও গত শতাব্দীতে ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানদের হেয় করার জন্য এসব কাজ করেছে। কলকাতার অমৃত বাজার, আনন্দ বাজার, দেশ পত্রিকাসহ অনেক বাংলা সংবাদপত্র সোহরাওয়ার্দিকে সুরাবর্দী, মুখলেসুর রহমানকে মুকুলেশ্বর, মুজিবুরকে মজিবর, ইসলামকে ইছলাম, মুসলিমকে মুশ্লিম ইত্যাদি বানানে লিখেছে। একশ্রেণীর মুসলমানরাও এ সুযোগ করে দিয়েছেন। দুনিয়ার সব লেখাপড়া করেছেন, বাংলা ভালো বলতে পারেন, আবৃত্তি করতে পারেন, ইংরেজিও সুন্দর ও শুদ্ধ করে বলেন, কিন্তু একটি আরবী বাক্য শুদ্ধ করে বলতে পারেন না। সালামের উচ্চারণ শুদ্ধ হয় না। বিসমিল্লাহ পুরোটা সঠিক করে বলতে পারেন না। বক্তৃতার শুরুতে হামদ ও সানা এবং দুরুদ পাঠটি শুদ্ধ করে শিখেননি। অন্যের কাছে শুনে শুনে যে এক আধটি কথা বলতে চেষ্টা করেন, সেটিও ভুলে ভরা। যা তাদের উচ্চ শিক্ষা, উচ্চ পদ ও ব্যক্তিত্বের জন্য হানিকর। অনেক ইসলামী দল ও সংগঠনের বড়দেরকেও সালাম, সূচনা খুতবা বা হামদ, দুরুদ সালামে যথেষ্ট ভুল করতে দেখা যায়। সামান্য দশ মিনিট সময় ব্যয় করে তারা তাদের এ জরুরী বিষয়টিকে সংশোধন করে নিতে পারেন না। যা খুবই লজ্জাজনক। অথচ এরা ইংরেজি সংলাপ ভালো বলতে পারেন। এক দু’টি আয়াত পড়ার সময় সর্বনাশা ভুল করে বসেন। এসব বিষয় শুধরে নিতে দশ/বিশ মিনিটের বেশি লাগে না। যা তাদের বাকী যোগ্যতাকে সারা জীবনের জন্য প্রমাণ করে দেয়। ব্যক্তিত্বেরও কোনো ক্ষতি হয় না। আধুনিক সমাজে ধর্মীয় জ্ঞান না থাকা এখন আর কোনো লজ্জার বিষয় নয়। একসময় প্রাথমিক ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে মানুষ লজ্জিত হতো। কালেমা, কালাম, নামায, দোয়া বা সাধারণ ধর্মীয় রীতি-নীতি, আদব-কায়দা না জানলে মানুষ সমাজে হেয় হয়ে থাকত। অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে গুটিয়ে রাখত। বর্তমানে এমনটি আর নেই। ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলেই বরং মানুষ বেশি আধুনিক হয়। নিজেকে প্রগতিশীল মনে করে। উন্নত মানুষ মানেই নামায-বন্দেগি সঠিকভাবে জানবে না। এমনকি সমাজের উচ্চ শ্রেণি হওয়ার নমুনা হচ্ছে, তার ধর্মীয় জ্ঞান ও আচরণ হবে ভুলে ভরা। বেশি প্রগতিবাদী ও আধুনিক মানুষ সে-ই, যার ইসলামী প্রতীক ও পরিচয় যত বেশি ত্রুটিপূর্ণ ও কম। ধর্মীয় কোনো ইবাদত বা অনুষ্টানে যার টুপি থাকবে না, অথবা টুপির স্থলে ছোট্ট রুমাল মাথায় বাধা থাকবে তিনি তত আধুনিক। সমাজে এই মানসিকতা একটি জাতির অধ:পতনের দৃষ্টান্ত। অথচ এই সমাজই অশিক্ষিত মানুষকে ঘৃণা করে। মানসম্পন্ন ডিগ্রিধারী না হলে গুণী মানুষকে অবহেলা করে। স্বশিক্ষিত যোগ্য ও জ্ঞানী মানুষকেও পাত্তা দেয় না। সাধারণ পড়ালেখা না থাকলে কিংবা কথাবার্তা ও আচরণে শিক্ষিতের মতো মনে না হলে তারা মানুষকে লজ্জা দেয়। লেখা বা কথা বলা অশুদ্ধ হলে সমাজে মানুষ হেয় হয়। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার বেলা ঠিক তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়। গত ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ইন্তেকাল করেন। তিনি বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী একজন কর্মবীর ছিলেন। তার জীবনের আদর্শ, বিশ্বাস ও চেতনা নিয়ে আলোচনা অর্থহীন। কারণ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে একটা আদর্শিক সংকট চলছে। শিক্ষিত মুসলমানদের অনেকেই আদর্শ হিসাবে এককভাবে ইসলাম ও ইসলামের নবীকে অনুসরণ করতে প্রস্তুত নয়। তারা শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থ ও রাজনীতিতে পশ্চিমাদের আদর্শ অনুসরণ করে থাকে। আমরা জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাহেবকে নিয়ে এখানে আলোচনা করব না। আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে এ ঘটনায় উঠে আসা কিছু সামাজিক চিত্র। যা বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের একাংশের বেশ অন্ধকার একটা দিক তুলে ধরতে সক্ষম। প্রথমেই ধরা যাক, সুন্নতের অনুসরণ না করে একাধিক জানাযার ফ্যাশন। যা এখন বাংলাদেশে একটি ধর্মীয় বিধানের তুলনায় নিছক সামাজিক অনুষ্ঠানের রূপ পরিগ্রহ করেছে। একটু পরিচিত ও অধিক সংশ্লিষ্ট লোক হলে তো আর কথাই নেই। তার একাধিক বা চার-পাঁচটি জানাযা হওয়া যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ শরীয়তের এ বিধানটি ফরযে কেফায়া। কিছু লোক একবার জানাযা পড়লে বাকি সব মুসলমানের কাঁধ থেকে এ দায়টুকু নেমে যায়। কেউই জানাযা না পড়লে সমাজের সবাই গোনাহগার হয়। ডাক্তার সাহেবেরও একাধিক জানাযা হয়েছে। একটি জানাযায় দেশের নানা পর্যায়ের বিশিষ্টজনেরা অংশগ্রহণ করেন। দেশের কয়েক জন প্রবীণ ব্যক্তিকে দেখা গেছে তারা পরস্পরকে দেখে দেখে নামাযের অনুশীলন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বর্ষীয়াণ বুদ্ধিজীবী এক শিক্ষককে দেখা গেছে, ঈদের নামাযের মতো জানাযার ইমাম সাহেবের প্রতি তাকবীরে হাত তুলতে। অথচ তিনি লক্ষ করছিলেন যে স্বয়ং ইমাম সাহেবই জানাযায় বার বার হাত তুলছেন না। পাশের মুসল্লীরাও না। তার দেখাদেখি তারই পাশের এক ভদ্রলোক এভাবেই প্রতি তাকবীরে হাত তুলছিলেন। তিনিও দেশের প্রথম কাতারের একজন বর্ষীয়াণ বুদ্ধিজীবী। অবশ্য তারা দুজনই জানাযায় হাত তোলার বিষয়ে সংশয়িত ছিলেন এবং একে অপরের দিকে, কখনো ইমাম সাহেব ও অন্য মুসল্লীদের দিকে তাকাচ্ছিলেন। ঠিক করণীয় নির্ধারণ করতে না পেরে উভয়েই লাজুক ভঙ্গিতে শেষ দুই তাকবীরে হাত না তোলা দলের পক্ষে চলে যান। জানাযার দৃশ্যটি ভিডিও আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসায় দেশবাসী সেটি দেখার সুযোগ পায়। দুঃখ লাগে এসব বিশিষ্টজন দুনিয়ার লাইনে বড় বড় ডিগ্রিধারী হয়েছেন কিন্তু মুসলমান হিসাবে নিজেদের অপরিহার্য দীনি শিক্ষাটুকু অর্জন বা চর্চা করেননি। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে কেউ এসব দৃশ্য দেখার পর বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজের এই অংশটিকে কার্যত ধর্মহীন না বলে উপায় আছে কি? ধর্মহীন সেক্যুলার সমাজ যাদের স্বপ্ন তাদের আশা পূরণ হতে আর কিছু বাকি আছে কি? ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আরেকটি জানাযা হয় তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানেও ছিল ব্যাপক অজ্ঞতা ও অনিয়ম। জানাযায় প্রথম কাতারে পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দুয়েকজন মহিলাকেও জানাযা পড়তে দেখা যায়। অথচ তারা সামান্য দূরে দর্শনার্থীদের সাথে অপেক্ষায় থাকতে পারতেন। একান্ত যদি জানাযায় শরিক হওয়ার ইচ্ছাই থাকত তাহলে নারীদের স্থানে তাদের মতো করে জানাযা পড়ে নিতেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে মানুষ দেখতে পেল শরীয়তের ধার না ধেরে যে যা ইচ্ছা তা-ই করে গেছেন। ডাক্তার সাহেবের পরিবারের কিছু সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন এমন সব আচরণ ও উক্তি করেছেন, যার সাথে শরীয়তের কোনো মিল নেই। এমনকি বাংলাদেশের সমাজেও এসব চলে না। তার লাশ দাফন করা হবে, না মেডিকেল কলেজে দান করা হবে, এ নিয়ে দীর্ঘ সময় আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের মধ্যে বাহাস চলে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়, আমাদের ইচ্ছা ছিল তার লাশ দান করার, কিন্তু সামাজিক কারণে আমরা দাফন করার দিকেই মত দিয়েছি। তাছাড়া আরেকটি কারণ হিসাবে তারা বলেন, দেশের কোনো মেডিকেল কলেজ তার লাশ নিতে এজন্য রাজি হচ্ছে না যে, তার মতো শ্রদ্ধেয় ও সম্মানিত ব্যক্তির দেহে কেউ ছুরি চালাতে সম্মত হবে না। তাই তার লাশ কেউ গ্রহণ করতে এগিয়ে আসছে না। যারা ঢালাওভাবে নিজেদের মরদেহ দান করার পক্ষে ক্যাম্পেইন করেন, তাদের জন্য এখানে একটি বাস্তব শিক্ষা রয়েছে। ইসলাম এজন্যই মরণোত্তর দেহ দানকে সমর্থন করে না। কারণ প্রতিটি মুমিনের দেহের প্রতি ইসলাম দয়ার্দ্র। ঈমানদার নারী-পুরুষ মাত্রের প্রতিই ইসলাম শ্রদ্ধা ও সম্মানের আচরণ করার পক্ষে। এখানে লাশ দাফনের প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া, মৃতদেহটি দান করে দেওয়ার পক্ষেই মত ও পছন্দ প্রকাশ করা এবং সামাজিক কারণে দাফনে সম্মত হওয়া থেকে তার আত্মীয়-পরিজনের ধর্মীয় ভাবধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ এর ১২ মার্চ ১৩শ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হলো। এতে আরবীতে কালেমা শরীফ স্পিকারের চেয়ারের বরাবর উপরে স্থাপিত হওয়ায় মুসলমানরা খুশি। এটি শতকার ৯২ ভাগের বেশি মুসলমানের দেশ। এদেশের সংসদের মুসলমানের ভাবধারা, চিহ্ন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থাকা আবশ্যক। যেমন ইহুদি, খৃষ্টান, বৌদ্ধ ও হিন্দু প্রধান সমাজের রাষ্ট্র ও সরকারে তাদের এসব প্রতিক রয়েছে। এগুলো বিজ্ঞান বা আধুনিকতার বিরোধী নয়। এসব নিয়ে যে মানুষ হীনমন্যতায় ভোগে বা প্রতিবাদ করে সে মূলত ধর্মহীনতার নামে শুধু ইসলামহীনতা চায়। সে নাস্তিক্যবাদী লোক। ধর্ম বিশ্বাসী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান সবার জন্যই তার চিন্তা ক্ষতিকর। আমরা চাই, বাংলাদেশে মুসলমানের সংস্কৃতি পরিপালিত হোক। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারে এর প্রতিফলন থাকুক। ঈদ আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। একে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। পাশাপাশি উৎসব ও সংস্কৃতি হিসাবে এর উন্নয়ন, পরিপালন এবং সমৃদ্ধ উদযাপনের গুরুত্বও অপরিসীম। শতকরা ৯২ এরও বেশি মুসলমান নাগরিকের দেশে ঈদের আগমনে যদি জাতি আপাদমস্তক আন্দোলিত না হয়, তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঈদোতসব পালনের যে গৌরবময় সুন্নাহ, এর আবেদনটিই বাংলাদেশের মুসলমান সমাজ অনুধাবন করতে ব্যর্থ হবে। যেখানে তিনি নবীন একটি তাওহীদি জাতির বিশ্বের দৃশ্যপটে অধিষ্ঠানের বার্তা দিচ্ছিলেন, মুখ ও মনের ভাষায় যেন বলেছিলেন, প্রতিটি জাতি সম্প্রদায়ের আনন্দ উতসব থাকে। আমাদের আনন্দ উতসব হচ্ছে এই ঈদুল ফিতর। এদিন তোমরা আমার নববী জামাতে সমবেত হবে। ঈদের সম্মিলনীতে মুসলিম জনসাধারণের অধিক সংখ্যায় সমাবেশ হবে মুসলমানদের জন্য গৌরবের। সেই প্রিয় আহবানে সাড়া দিতে প্রায় দেড় হাজার বছর পরেও আজ বিশ্বের ২০০ কোটি মুসলমান ঈদের নামাজে অংশ নেয়। লেখক: সিনিয়র সহকারী সম্পাদক, দৈনিক ইনকিলাব; বহুভাষা ইতিহাস ধর্ম ও সমাজতত্ত্ববিদ আইএইচ/ |