জুমার ‍দিনের বিশেষ ৫টি আমল
প্রকাশ: ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:২১ দুপুর
নিউজ ডেস্ক

শুক্রবার পবিত্র জুমার দিন। এ দিনকে বলা হয় সপ্তাহের ঈদের দিন। ইসলামে এ দিনের মর্যাদা অনেক। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মধ্যে শুক্রবার বা জুমাবারকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ‍দিয়েছেন শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা। কোরআন-হাদিসে এ দিনের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে।

হজরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী উম্মতদের কাছে জুমার মর্যাদা অজ্ঞাত রাখেন। তাই ইহুদিরা শনিবার নির্ধারণ করে। আর খ্রিস্টানরা রবিবার নির্ধারণ করে। অতঃপর আমরা আসি। আমাদের কাছে তিনি জুমার দিনের মর্যাদা প্রকাশ করেন। (মুসলিম: ৮৫৬)

 
পবিত্র জুমার দিনে বিশেষ কিছু আমাল রয়েছে, যা আমাদের পালন করা উচিত।হাদিসে সেগুলোর মর্যাদা বিশেষভাবে বর্ণিত।

১। ভালোভাবে গোসল করা
 
জুমার দিন গোসল করার অনেক ফজিলত রয়েছে। গোসল করে সবার আগে মসজিদে যাওয়া সওয়াবের কাজ। হজরত আউস বিন আউস সাকাফি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করল, দ্রুততর সময়ে মসজিদে গেল ও (ইমামের) কাছাকাছি বসে মনোযোগসহ (খুতবা) শুনল, তার জন্য প্রতি কদমের বদলে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব থাকবে। (আবু দাউদ: ৩৪৫)
 
২। জুমার নামাজ পড়া

শুক্রবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ পড়া। এবং এর অনেক ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত আছে।

হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। (সহিহ মুসলিম: ২৩৩)

হজরত সালমান ফারসি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল, সাধ্যমতো পবিত্র হলো, তেল ব্যবহার করল, ঘর থেকে সুগন্ধি ব্যবহার করল, অতঃপর মসজিদে এলো, সেখানে দুজন মুসল্লির মধ্যে ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গেল না, নির্দিষ্ট পরিমাণ নামাজ পড়ল, অতঃপর ইমাম খুতবা শুরু করলে চুপ থাকল; তাহলে আল্লাহ তাআলা তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করবেন। (সহিহ বোখারি: ৮৮৩)
 
  
৩। বেশি বেশি দোয়া করা 
 
পবিত্র জুমার দিনে আমাদের বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। কারণ, এদিনে এমন  একটি সময় আছে, যখন দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন। হজরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে ভালো কিছুর দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে তা দান করেন। তোমরা সময়টি আছরের পর অনুসন্ধান করো। (আবু দাউদ: ১০৪৮)
 
হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত অন্য আরেক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যদি কোনো মুসলিম এ সময় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে দান করেন। এই মুহূর্তটি তোমরা আছরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান কোরো। (আবু দাউদ: ১০৪৮)
 
৪। সুরা কাহাফ পাঠ করা
 
জুমার অন্যতম আমল সুরা কাহাফ পাঠ করা। হজরত আবু সাইদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে তা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার জন্য আলোকিত হয়ে থাকবে। আর যে ব্যক্তি এই সুরার শেষ ১০ আয়াত পাঠ করবে অতঃপর দাজ্জাল বের হলে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। যে ব্যক্তি অজুর পর এই দোয়া পড়বে তার নাম একটি চিঠিতে লেখা হবে। অতঃপর তাতে সিল দেওয়া হবে, যা কিয়ামত পর্যন্ত আর ভাঙা হবে না। (তারগিব: ১৪৭৩, আল মুসতাদরাক: ২/৩৯৯)

৫। বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা

জুমার দিন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অনেক সওয়াবের। হজরত আউস বিন আবি আউস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এই দিনে সবাইকে বেহুঁশ করা হবে। অতএব, তোমরা এই দিনে আমার ওপর বেশি পরিমাণে দরুদ পড়ো। কারণ জুমার দিনে তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। সাহাবারা বললেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কীভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনার দেহ একসময় নিঃশেষ হয়ে যাবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ জমিনের জন্য আমার দেহের ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন। (আবু দাউদ: ১০৪৭)

আইএইচ/