
|
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বেতন ও কর্মদিবস কমাল পাকিস্তান
প্রকাশ:
১১ মার্চ, ২০২৬, ০৮:৫৩ রাত
নিউজ ডেস্ক |
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সরকারের জাতীয় ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যের বেতন ২৫ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে দেশটির সব সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে সপ্তাহে চার দিনের কর্মদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) পাকিস্তানের পার্লামেন্টের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহত্তর যুদ্ধকালীন কৃচ্ছ্রসাধন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সকল সংসদ সদস্যের বেতন ও ভাতা দুই মাসের জন্য ২৫ শতাংশ কমানো হবে। আর ২০ গ্রেড এবং তার ওপরের সকল সরকারি কর্মকর্তা, অর্থাৎ যাদের মাসিক আয় ৩ লাখ রুপির বেশি, তাদের দুই দিনের বেতন কাটা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জাতীয় পরিষদের মাত্র ২০ শতাংশ কর্মী সশরীরে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন, বাকি ৮০ শতাংশ কর্মী ঘূর্ণায়মান তালিকার মাধ্যমে বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এসময় বাড়ি থেকে কাজ করা কর্মীরা কোনো ধরনের ভাতা বা ওভারটাইম চার্জ পাবেন না। জ্বালানি সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার ৭০ শতাংশ হ্রাস করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফলে সূর্যাস্তের আগে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন এবং সংসদীয় কমিটির সভা নির্ধারণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এরআগে গত সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, পুরো অঞ্চল সংঘাতের কবলে পড়েছে। এই সঙ্কট নিরসনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এছাড়া ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনও বেতন পাবেন না। তিনি বলেন, এখন থেকে সব সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন কাজ করবে। আর বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে তাদের ৫০ শতাংশ কর্মীর বাসা থেকে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংক কৃষি ও শিল্প খাত, অথবা হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে। শেহবাজ শরিফ আরও জানান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ এবং সব সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মিটিং বা টেলি কনফারেন্সকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও সরকারি পর্যায়ে সব ধরনের নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেমিনার ও অনুষ্ঠানের জন্য শুধু সরকারি ভেন্যু ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য দেশের স্কুল ও কলেজ বন্ধ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলবে বলেও ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: ডন, জিও আইএইচ/ |