
|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে দফায় দফায় বাড়ছে তেল-গ্যাসের দাম
প্রকাশ:
০৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:২২ দুপুর
নিউজ ডেস্ক |
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্ববাজারে দফায় দফায় বাড়ছে তেলের দাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত কয়েক সপ্তাহের চেয়েও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৬ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংঘাতের পূর্বে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে চলতি বছরে তেলের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছিল। ইরানের তেল উৎপাদন বিশ্ব চাহিদার ৫ শতাংশেরও কম হলেও বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ বা সীমিত হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেলবাজারে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি বড় শিপিং কোম্পানি ওই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে। সোমবার হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি ধারণা করেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, এমনকি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধেও রূপ নিতে পারে। প্রাইস-ট্র্যাকিং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গ্যাস স্টেশনগুলোতে দাম বাড়তে শুরু করেছে। রোববার থেকে জাতীয় গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের খুচরা মূল্য বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৭ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ফলে গত কয়েক বছর ধরে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় আসতে পারে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও ব্যাপকভাবে এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার জানিয়েছে, তাদের অপারেটিং স্থাপনায় হামলার কারণে এলএনজি উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ খবরের পর ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। ইরান পাঁচটি জাহাজে হামলা চালানোর পর টানা চতুর্থ দিনের মতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা জানান, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি বিশ্বের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে। এমএম/ |