
|
কওমি থেকে পুলিশে ১০০০ কনস্টেবল নিন
প্রকাশ:
০৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৫ বিকাল
নিউজ ডেস্ক |
|| মাসউদুল কাদির || দীর্ঘ দিনের সততায় সতত আধুনিকতায় প্রাসঙ্গিক দেশের কওমি মাদরাসা। কওমি মাদরাসা নিয়ে অনেক কথা আছে। পক্ষ বিপক্ষ আছে। অনেকেই সবধরনের পরীক্ষা করেছেন। কেনাবেচা থেকে শুরু করে সবই হয়েছে। ইংরেজ খেদাও আন্দোলন থেকে শুরু করে আজ অবধি উপমহাদেশের দেওবন্দি ধারার মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিদ্যার গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেবল মূর্খ, অশিক্ষিত কিংবা অজ্ঞ লোকেরা। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘শিগগিরই পুলিশের ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে’। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একবার পুলিশ সদর দফতরে তখনকার পুলিশ মহাপরিদর্শর্কের আমন্ত্রণে একটি পরামর্শ সভায় যোগদান করেছিলাম। সেখানে একটি প্রশ্ন হয়ে উঠেছিল, পুলিশ সেবক, পুলিশ মানুষের উপকারে কাজ করে অথচ পুলিশকে দেখলে মানুষ এড়িয়ে চলতে চায়। কেন? পুলিশকে মানুষের বন্ধু বানানোর কী কী প্রক্রিয়া আছে? অনেকেই তখন সততার কথা বলেছেন। দীর্ঘ মেয়াদে পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ধারণা তৈরি হয়েছে তা এক্ষণি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে ধীরে ধীরে তা কাটিয়ে ওঠো অসম্ভবও নয়। ২০২৪ সালে প্রথম আলোতে প্রকাশিত সুইডেনের একটি জরিপে দেখা যায়, সুইডেনের ৭২ শতাংশ মানুষের আস্থা রয়েছে দেশটির পুলিশ বাহিনীর ওপর। গত বছরের জরিপে পুলিশ বাহিনী ৬৭ শতাংশ মানুষের আস্থা পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। সে বছর প্রথম স্থানে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়–কলেজগুলো। আর এ বছর তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে আছে স্বাস্থ্য খাত। এবার ৬৮ শতাংশ মানুষ এ খাতের ওপর তাদের আস্থা রেখেছে। গত বছরও এই জরিপে সুইডেনের স্বাস্থ্য খাত তৃতীয় স্থানে ছিল। এ বছর চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে যথাক্রমে আদালত (৬৫ শতাংশ) ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংক (৫১ শতাংশ)। (প্রথম আলো, অনলাইন পত্রিকা, 11 মার্চ ২০২৪) বলার অপেক্ষা রাখে না যেসব খাতে সুইডেন ভালো করছে, আমার সোনার স্বদেশে এসব খাতগুলোই বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। পুলিশের ওপর আস্থা একেবারেই কম। আগে আর এখন নয়। সবসময়ই কম ছিল। পুলিশ সদরদফতর সবসময় পুলিশে আস্থা ফেরাতে তৎপর ছিল। সারা অঙ্গে ব্যথা হলে ওষুধ দেব কোথা? এমন প্রশ্ন আছে। সবশেষে জুলাই গণহত্যার সময় পুলিশ সরাসরি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বুকে গুলি করে আস্থার বাজারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। জায়গায় জায়গায় তারাও আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাই বলে সব পুলিশকে আপনি একই জায়গায় মাপার সুযোগ নেই। পুলিশে অবশ্যই ভালো মানুষ আছে। কেবল খারাপ ঘটনাটাই সংবাদ। তাই আমরা কেবল খারাাপটাই জানি। পজেটিভ সাংবাদিকতা এ দেশে অচল। সচল করবার কেউ নেই। আমরা দেখছি, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশে আস্থা ফেরানোর কথা বলছেন। এটা ভালো দিক। ভালো চর্চার সঙ্গে পুলিশকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পুলিশ কিন্তু একজন মানুষ। তার খেতে হয়, পরতে হয়, ঘুমুতে হয়। পুলিশকে আমরা কি মানুষ ভাবি? কতটুকু? আপনি যখন মন্ত্রী, তখন পুলিশকে মানুষ ভাবেন না। আপনি যখন এমপি তখন পুলিশকে মানুষ ভাবেন না। আপনি যখন বড় কর্তা তখন পুলিশ আর পায়ের জতোটা এক মুহূর্তের জন্য খুলে বসতে পারে না। এই পুলিশের কাছে আমরা সততার কথা শুনতে চাই। সুন্দর আচরণের বিপ্লবের কথা তুলে ধরতে চাই। তা হবার নয়। সবার আগে পুলিশকে মানুষ ভাবতে হবে। কেমন মানুষ আমরা ভাববো? আমার সন্তান যেমন, আমার ভাই যেমন, আমার মা যেমন, আমার বোন যেমন ঠিক তেমনি। এখনো দুই হাত প্রসারিত করেই ইফতারের খেজুর চিবুতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। অসহায় পুলিশের এমন দৃশ্য দেখে দেখে আমরা কিন্তিু সা সা করে গাড়ি নিয়ে ইফতার করতে করতে চলে যাই। এমন কষ্টকর, রিসকি, যন্ত্রণাদায়ক কর্তৃব্য পালনে সচেষ্ট থাকে পুলিশ। কখনো পুলিশ বলে না-আমরা এই কর্তব্য পালন করতে পারবো না। পুলিশের পোশাক নিয়ে কথা উঠছে। ইউনূস সরকার বদল করেছে, ঠিক আছে। এমন পোশাক দিতে পারতেন- যা নিয়ে পুরো পুলিশ বিভাগ আজীবন গর্ব করতো। ফকিন্নির মতো ম্যার ম্যারে এক কালারের ডিজাইন দিয়ে পুলিশের পোশাক বদলটা অপমানের। সম্মানের না। পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও বুঝবার সুযোগ নেই -এটা পুলিশের পোশাক। যাক, এসব কথা বলবার ইচ্ছা ছিল না। আমি বলতে চাইছি, কওমি অঙ্গনের শিক্ষার্থীরাও এ দেশের নাগরিক। তাদেরও এ দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। এক পতাকা, এক বিজয় দিবস, এক স্বাধীনতা দিবস। এতে ভালোবাসার কোনো ঘাটতি নেই। স্বাধীনতার পর থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা মাদরাসার তলাবাদের বাংলাদেশবিরোধী সাজাতে কম চেষ্টা করেনি। আদতে কওমি অঙ্গন সবসময় বাংলাদেশপন্থার পক্ষে ছিল। ভবিষ্যতেও থাকবে। কারণ, আাপনাদের গুরুরা, সোহরোওয়ার্দী, শেরে বাংলা ফজলুল হক, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মহাত্মা গান্ধী, প্যাটেলদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন মাওলানা মাহমুদ দেওবন্দী, মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী, মাওলানা হিফজুর রহমান, মাওলানা আহমদ শহিদ, মাওলাানা ইসমাইল শহিদ, মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধীসহ হাজার হাজার আলেম উলামা। আজ প্রশ্ন তুলছে অনেকে, কওমির শিক্ষার্থীদের কি দেশপ্রেম আছে? এ প্রশ্নের অধিকার আপনি রাখেন? ষোড়শ শতাব্দীতে (১৫৪০-এর দশকে) শেরশাহ সুরি নির্মাণ করা গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (GT Road) এর প্রতিটি বৃক্ষকে জিজ্ঞেস করুন, জবাব দেবে, কী পরিমাণে তাদেরকে গাছে গাছে জুলিয়ে মারা হয়েছিল আলেমদের। সরকারের সঙ্গে কেন থাকতে চায়নি, অনুদান চায়নি কওমি মাদরাসা। শুধু সরকারে রোষানলে পড়ে দীনি সেবা যেন ব্যাহত না হয়। নিজেদের জীবনে আরাম আয়েশকে পাশে রেখে কষ্টকর জীবনকে বেছে নিয়েছেন আলেমগণ। আজ তাদের ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পারবেন, এসব ইতিহাস তিনি জানেন। একবার আস্থা রাখুন। পুলিশে নিন, দেখবেন তারা ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে আস্থা রাখবে। আর্মিতে নিন দেখবেন দেশের জন্য তারা জীবন দেবে। বিজিবিতে নিন দেশপ্রহরায় কেমন অবদান রাখে- তা না দেখলে বিশ্বাস হবে না। আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দিন। আমিন। লেখক: কবি-ছড়াকার ও সাংবাদিক আইএইচ/ |